অভিযোগ ও তদবির
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অভ্যন্তরে থাকা রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের সঙ্গে চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন হাসপাতালে দায়িত্বশীলদের সতর্ক করে দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
কে–কাদের শোকজ করা হয়েছে
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে বসে রোগীদের বাইরে চেম্বার পরামর্শ দেওয়া এবং বহিরাগতদের সরকারি হাসপাতালে সহায়কেরূপে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ মোতাবেক শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শোকজের নির্দেশ প্রাপ্ত দুই চিকিৎসকের নাম ও পদবী নিম্নরূপ:
| নাম | পদবী | অবস্থা |
|---|---|---|
| ডা. অনিরুদ্ধ মন্ডল | জুনিয়র কনসালটেন্ট (ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন) | শোকজ নোটিশ |
| ডা. মো. নাঈম খান | বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক বা মেডিকেল অফিসার | শোকজ নোটিশ |
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত ও এমপির পদক্ষেপ
ঘটনা প্রসঙ্গে জানানো হয়, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গতকাল দুপুরে ঢাকনা দৈনিক পর্যালোচনায় জেলা প্রশাসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা করেন সংসদ সদস্য রতন। সভা শেষে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালের নতুন ভবনের পেছনে ও বিভিন্ন ককঠ ও বারান্দা থেকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ লক্ষ্য করেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতাল এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগও নেন তিনি।
রোগীদের অভিযোগ
পরিদর্শনের সময় দুই রোগী সরাসরি সংসদ সদস্যের কাছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল:
- হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার এক চিকিৎসক একজন নারীকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
- হাসপাতালের ১২২ নম্বর কক্ষে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে যাওয়া আরেক রোগীর হাতেও একটি ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে বলা হয়েছিল শহরের সামনের একটি ক্লিনিকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়।
“হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার এক চিকিৎসক তাঁকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে সেখানে চিকিৎসা নিতে যেতে বলেন।”
এসব অভিযোগ শুনে সংসদ সদস্য ওই কক্ষে গিয়ে একজন নারীকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে ঝাড়ু করতে দেখা করেন এবং তাঁর পরিচয় ও হাসপাতালে কাজ করার বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। ঐ নারীর জবাবে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাঁকে কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ধরনের অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা মৌলিকভাবে সরকারি হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা ও রোগীদের আস্থা নস্যাৎ করতে পারে। একটি জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক কর্তৃক রোগীদের বৃত্তান্তহীনভাবে বেসরকারি সেবায় প্রেরণ রোগীর ওপর আর্থিক ও মানসিক বোঝা বাড়ায় এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলেছেন। এ তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তীতে গ্রহণযোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা মুন্সিগঞ্জবাসার কাছে সরাসরি প্রাসঙ্গিক হবে।
পরবর্তী ধাপ
এ মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে লিখিত জবাব ও তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ না হলে বিষয়টি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে না। স্থানীয় জনগণের নিরাপদ ও ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের দাবি থেকে বিষয়টি গুরুতর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।