গাজীপুর সদর — কাতলামারা গ্রামের মিতা রানী দাস (২৫)র মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার সোমবার স্থানীয় বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের আশঙ্কা ও দাবি জানায়। পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, মিতাকে বিয়ের পর থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত করা হতো এবং খাদ্য verme করা হতো—মৃত্যুর পুর্বদিনই মিতা ফোনে এসব কথার কথা জানিয়েছিলেন।
পরিবারের দাবি ও জানানোর বিবরণ
পরিবার বলছে, প্রায় দুই বছর আগে মিতার বিয়ে হয় ফুটন ঝুটন দাসের সঙ্গে। বিবাহের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির নানারকম আচরণে কষ্ট পেতেন তিনি। এক পর্যায় মিতা বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর পারিবারিক মিলনসাধনের পর ১২ জুন তাকে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৮ জুলাই রাতে মিতা ফোন করে বাবা-কে জানান যে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং খাবার দেওয়া হচ্ছে না; পাশাপাশি তিনি প্রাণনাশের আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। পরদিন সকালেই শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, মিতা বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ও মামলার অবস্থা
নিখিলনের বাবা বাদী হয়ে মোট আটজনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন; অভিযোগ করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায়। পৌর ও থানার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের পরই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে, কিন্তু মামলার এক মাস পার হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এটাই পরিবারের ক্ষোভের মূল কারণ।
“ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা।”
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুনের কথায়, তদন্তে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হবে না; ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এসে গেলে তদন্তে প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
“মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে; আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবারের দাবি ও দাবিসমূহ
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের দাবি ছিল:
- তৎপরতার সঙ্গে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত চালানো হোক
- ময়নাতদন্তসহ সকল আলামত খতিয়ে দেখা হোক
- পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে ঘটনাটি কোনোভাবে আত্মহত্যার আড়ালে হত্যাকে ঢেকে রাখার চেস্টা হতে পারে; তাই ময়নাতদন্তের ন্যূনতম স্তরে ভর করে তদন্ত চালাতে বলেছে পরিবার।
ঘটনার সময়রেখা (সংক্ষিপ্ত)
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| প্রায় দুই বছর আগে | মিতার বিয়ে ফুটন ঝুটন দাসের সঙ্গে |
| গত ১২ জুন | পারিবারিক সমঝোতার পর মিতা স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান |
| ৮ জুলাই | মিতা বাবাকে ফোন করে নির্যাতন ও খাবার না দেওয়ার কথা জানান; প্রাণনাশের আশঙ্কা জানান |
| ৯ জুলাই (সকাল) | শ্বশুরবাড়ি থেকে জানানো হয় মিতা বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত |
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী প্রত্যাশা
প্রতিবেশীরা বলছেন, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, বিশেষত যখন হত্যা-অভিযোগ উঠে আসে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ার পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের অনুরোধও জোরালো হয়েছে।
সম্প্রতি থানার পক্ষ থেকে ময়নাতদন্তের ফলের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে—তাই পরিবারের দাবি অনুযায়ী ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে প্রকাশ হলে তদন্তে সুষ্ঠু অগ্রগতি আশা করা যাচ্ছে।
আমাদের দেখার বিষয়
এই মামলার ক্ষেত্রে পুলিশি কার্যক্রম, ময়নাতদন্তের ফলাফল ও তারা যে প্রমাণাদি সংগ্রহ করবে সেগুলোর ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেগুলোই আগামী কিছু দিনের মধ্যে মামলার সুর নির্ধারণ করবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ আচরণ পেলে পরিবারের অসন্তোষ কমবে এবং গ্রাম সম্প্রদায়ে স্বস্তি ফিরে আসতে পারে।
বিকাশ ও অনুসন্ধান: এই প্রতিবেদনে রাতে জয়দেবপুর থানায় যোগাযোগ করে পক্ষপাতহীন তদন্তের আশ্বাস নেয়া হয়েছে; ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
শাহনাজ পারভীন, গাজীপুর থেকে