ময়মনসিংহ বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে ভূ-সম্পদ ও অনুমতি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে যে তিনি বনভূমিতে পাকা ঘর নির্মাণের অনুমতি দেয়ার নাম করে এবং অফিসে জব্দ থাকা কাঠপানা বিক্রি করে বড় অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ অনুসারে কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের আভাস মিলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও উল্লেখিত টাকার বিবরণ
উথুরা রেঞ্জের আদারগারা বিটের বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয়দের কাছে অনুমতি না নিয়ে বা অনুচিতভাবে পাকা ঘর তৈরির অনুমতি দিয়ে জমা নেওয়া অর্থের বিস্তারিত সূত্রে উঠে এসেছে। অভিযোগে যেসব ব্যক্তির নাম ও যে পরিমাণ অর্থের কথা উল্লেখ আছে, সেগুলো হলো:
| স্থান/ব্যক্তি | অনুমতির ধরণ | উল্লেখিত টাকা (টাকা) |
|---|---|---|
| শহীদের মোড়—শফিকুল ইসলাম | পাকা বিল্ডিং অনুমতি | ১৮,০০,০০০ |
| গার্মেন্টকর্মী আলম ও স্ত্রী মুক্তা | পাকা ঘর অনুমতি | ১৫,০০,০০০ |
| থালপাড়া গজারি বাগান—মোশারফ হোসেন | টিলায় ঘর নির্মাণ অনুমতি | ১৫,০০,০০০ |
| ঢালপাড়া—মুজিবুর | সাত রুমের পাকা বিল্ডিং অনুমতি | ২৫,০০,০০০ |
| হিজলাপাড়া গজারি বাগান—মোশাররফ হোসেন (যার পিতা ইয়াসিন) | পাকা ঘর অনুমতি | ১৮,০০,০০০ |
| পল্লি চিকিৎসক বেলাল হোসেনের জামাতা | দোতলা ঘর নির্মাণ অনুমতি | ৩,৫০,০০০ |
| কালিবাড়ীর মোড়—রুবেল হুজুর | পাকা ঘর অনুমতি | ৩,০০,০০০ |
অপর একটি সূত্র জানায়, আঙ্গারগারা বিট এলাকায় মোট ২০টি পাকা ঘর নির্মাণের অনুমতি দিয়ে আরও ৫০,০০,০০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বন-সংযুক্ত একাধিক সূত্র মনে করেন, এসব ছিল সামান্য অঙ্ক নয়—একাধিক লেনদেন মিলিয়ে মোট কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে।
অফিসের গাছ বিক্রি ও আর্থিক দায়িত্ব
এক সূত্রে বলা হয়েছে, ডেপুটি রেঞ্জার উথুরা রেঞ্জ পরিদর্শনকালে অফিস খরচের নাম করে কম্পাউন্ডে জব্দ থাকা আকাশমণি গাছ বিক্রি করে নগদ অর্থ সঞ্চয় করে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি সম্পদ বিক্রিতে ন্যায্য প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়নি এবং বিক্রিত অর্থের হিসাবও পরিস্কার নয়।
“অভিযোগের ব্যাপারে আমি বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে পরে বিস্তারিত জানাব।”
এই কথা বলেছেন একই পন্থায় ফোনে যোগাযোগ করলে ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল। তিনি অভিযুক্ত বিষয়ে সরাসরি কোনো বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া বা খণ্ডনাই করেননি।
প্রভাব ও অনাগত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়রা বলছেন, বনভূমি ও সরকারি সম্পদের দুর্নীতি হলে স্বভাবতই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়—বনভূমি অপরিবর্তিত থাকলে সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে জনজীবন ও কৃষিজমির উপর প্রভাব ফেলে। এছাড়া অনুমতি-নীতি অনিয়ম হলে সরকারের নীতিনির্ধারণ ও স্থানীয় প্রশাসনের ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।
- স্থানীয় অবস্থা: অভিযোগ গুলো মেলালে বহু জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণ বেড়ে যেতে পারে, যা বনভূমির হ্রাস ঘটায়।
- প্রশাসনিক অনুসন্ধান প্রয়োজন: অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
- জনস্বার্থে স্বচ্ছতা জরুরি: সরকারি সম্পদের লেনদেন ও অনুমতি প্রদানের দফতরীয় নথি প্রকাশ করলে সন্দেহ দূর হবে।
এ ঘটনায় ময়মনসিংহ বনবিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন কবে পর্যন্ত তদন্ত শুরু করবে বা কি পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও বন-সম্পৃক্ত কর্মকর্তা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। সংবাদ আনার সময় পর্যন্ত বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন বা সংশ্লিষ্ট প্রথমিক নোটিশের কোনো প্রমাণ মেলে নি।