ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যমতে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি
হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ৭৫ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু ও সমমানের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০৩ জন রোগী—যাঁদের মধ্যে পুরুষ ৫৭, নারী ৩৬ এবং শিশু ১০ জন।
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি | ৩৭ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র | ৭৫ |
| বর্তমানে ভর্তি রোগী | ১০৩ |
| চলতি বছরে মোট চিকিৎসা নিয়েছেন | ২,৩৮৪ |
| চলতি বছরে মোট মৃত্যু | ২০ |
মৃত্যুর বিবরণ ও হাসপাতালের বক্তব্য
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়, মৃত দুই রোগীর মধ্যে একজন হচ্ছেন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার গাছতলা বাজার এলাকার কুলসুমা আক্তার (৫০)। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৭ সেপ্টেম্বর আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অপর ব্যক্তি আল আমিন (৩৫), তিনি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার নুরুল ইসলামের ছেলে; তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভর্তি হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর আইসিইউতে মারা গেছেন।
"গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২০ জন মারা গেছে,"
এই কথা বলেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইন উদ্দিন খান। তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে এবং জনগণকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন।
প্রভাব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা
ডেঙ্গুর ঋতু এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত কারণে এ ধরনের ক্লাস্টার বৃদ্ধি ঘটে থাকে। মশা জনিত রোগ প্রতিরোধে ঘর-বাড়ি ও আশপাশে স্থায়ী ও যানবাহনে জল জমতে না দেওয়াই সবচেয়ে প্রাথমিক কর্মসূচি। অনানুষ্ঠানিকভাবে দ্রুত সনাক্তকরণের মাধ্যমে গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে সময়মত হাসপাতালে ভর্তি করানো রোগী মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।
- সবেমাত্র দেখা সাধারণ সতর্কতা: বসতাশত ও বাড়ির আশপাশে পানি জমে না রাখতে হবে।
- উপসর্গ চিনে দ্রুত পদক্ষেপ: জ্বর ২৪-৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকলে, তীব্র পেশী ব্যথা, পেটব্যথা বা রক্তপাত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসালয়।
- চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ: ডিহাইড্রেশন রোধে পর্যাপ্ত তরলসেবন; গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে আইসিইউ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি
হাসপাতালের প্রকাশিত পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগীভর্তি এবং আইসিইউ বেড ব্যবহারে চাপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা-ওয়ার্ড পর্যায়ে নীচে থেকে মশক নিধন, যোগাযোগ-প্রচারণা ও অতি সংবেদনশীল রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ নিয়ে তৎপরতা বাড়ানো জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রোগসংখ্যার বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সাধারণ জনগণের কাছে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যান ও মৃত্যুর বিবরণ কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর সমন্বয় ও জনসচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ করলে রোগসংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সহায়তা মিলবে বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো এই সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান স্থানীয় জনগণের জন্য সতর্কতার রিহার্সাল। ঋতুবৈচিত্র্য ও জনসংখ্যা ঘনত্বের কারণে ডেঙ্গু ঝুঁকি বাড়তে পারে—এজন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও অবিলম্বে হস্তক্ষেপ নিতেই সালিশি সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।