ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জটিলতায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৯ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭৬ জন রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টার ও চলতি মাসের চিত্র
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম খেলন সরকার; তিনি ছিলেন ময়মনসিংহ নগরের রামবাবু রোড এলাকার মৃত নরেন্দ্র সরকারের স্ত্রী এবং বয়স ছিল ৬৫ বছর। খেলােন সরকার গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন এবং বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
হাসপাতালের পাঠানো তথ্য থেকে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৪ দিনে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩। একই সময়ে মোট রোগী হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১,২৫১ জন।
জানুয়ারি—সেপ্টেম্বর পর্যায়ে সামগ্রিক অবস্থা
বছরের প্রথম ন’মাসে (জানুয়ারি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) মোট রোগী হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ২,৭০৬ জন; ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২৩ জন। বর্তমান হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা ১৩০—তাদের মধ্যে পুরুষ ৯২, নারী ৩৮ এবং শিশু ১০।
| নীতিগত শিরোনাম | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘন্টায় ভর্তি | ৫৯ |
| গত ২৪ ঘন্টায় ছাড়া | ৭৬ |
| চলতি সেপ্টেম্বর মাসে মোট হাসপাতালে ভর্তি | ১,২৫১ |
| জানুয়ারি—২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ভর্তি | ২,৭০৬ |
| জানুয়ারি—২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যু | ২৩ |
চিকিৎসা ও সতর্কতার আহ্বান
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মাইনউদ্দিন খান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে এবং যারা ভর্তি রয়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
“ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যারা ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেছেন যে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। হাসপাতালের পরিসংখ্যান ও রোগীর গতিবিধি বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সংক্রান্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে বলেও সূত্রে জানা গেছে।
কোথায় ঝুঁকি বেশি এবং করণীয়
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তদের যৌথ বৈশিষ্ট্য থেকে দেখা যায়—অধিকাংশ রোগী নগর এলাকায় বাস করেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, ডেঙ্গু মশার বংশবৃদ্ধি রোধে আশপাশ পরিষ্কার রাখা, পানির খোলনাগুলো ঢেকে রাখা এবং প্রয়োজনে নারী-পুরুষ-শিশু সবাই মশার প্রতিরোধী কাপড় পরা জরুরি।
- ব্যক্তিগত সতর্কতা: মশারি, লম্বা হাতের শাড়ি বা পোশাক, মশা নাশক ব্যবহার।
- পরিবেশগত ব্যবস্থা: পরিষ্কার নর্দমা, খোলা পানির সংস্থান বন্ধ রাখা, আবর্জনা নিয়মিত অপসারণ।
- চিকিৎসা সেবা: জ্বর, বমি, তীব্র ক্লান্তি বা পেটব্যথা হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ছাড়াও স্থানীয় ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে হবে। রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি জরুরি পদক্ষেপ না নিলে শীতের আগে ডেঙ্গু প্রবাহ এবং রোগীর চাপ আরো বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন।
হতাহত ও হাসপাতালে ভর্তি সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কঠোর মনিটরিং ও জনসচেতনতার কার্যকর প্রচারণা অপরিহার্য বলে বিজ্ঞানের নির্ভরযোগ্য তথ্য ও হাসপাতালের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে।