মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জুনিয়র নীতিমালা অগ্রাহ্য করে পরিচালিত বদলি ও পদায়নের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট তারিখে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে ২২টি বিদ্যালয়ের জন্য বদলি-পদায়ন থেকে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে।
নীতিমালার মূল বিধি ও অভিযোগ
মন্ত্রণালয়ের ২৯ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেখানে কর্মরত শিক্ষক সংখ্যা পাঁচ জন বা তার কম সেখানে শিক্ষক বদলি করা যাবে না এবং বদলি হলে তা অবশ্যই শূন্যপদের বিপরীতে হতে হবে। কিন্তু সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি বদলিতে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে তদন্তে দেখা গেছে।
কোন কোন বিদ্যালয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে
- নতুন পালড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—ছয় অনুমোদিত পদের মধ্যে আগেই দুটি শূন্য থাকার পর চারজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছিলেন। আদেশে একজনকে অন্যত্র বদলি করা হলে শিক্ষক সংখ্যা নেমে আসে তিনজন।
- উত্তর মালুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—ছয় পদের বিপরীতে পাঁচজন কর্মরত ছিলেন; একজন সরানোর পর সংখ্যা নেমে আসে চারজন।
- পোড়রা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—চৌদ্দ অনুমোদিত পদের মধ্যে একটিই শূন্য ছিল; তবু একই আদেশে দুটি পৃথক বিদ্যালয় থেকে মোট দুজনকে সেখানে পদায়ন করা হয়েছে, ফলে সেখানে একজন অতিরিক্ত শিক্ষক রাখা হয়েছে।
- গুজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—যেখানে সব পদের শিক্ষকই ছিলেন, সেখানে একজনকে বদলি করা হলে নতুন করে শূন্যপদ সৃষ্টি হয়েছে।
- এ ছাড়া আফসার উদ্দিন মোল্লা, দক্ষিণ চৈল্যা ও কাটিগ্রাম-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও অনুরূপ অবস্থার কথা স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শিক্ষকদের ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া
নতুন পালড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শবনাজ আক্তার বলেন,
“এমনিতেই আমাদের বিদ্যালয়ে দুইজনের পদ শূন্য ছিল। ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর মধ্যে আরও একজন কমে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
তাঁর কথায়, স্থানান্তরের ফলে শিক্ষার্থীদের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে এবং শিক্ষা সেবার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ফলাফল
বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে ইতিমধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ে শূন্যপদ ছিল, সেখানে আরও বদলি করলে ক্লাস চালু রাখা ও পাঠদানের শর্তমাফিক সময় পালন করা কঠিন হবে। অপরদিকে কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শিক্ষক পাঠানো হলে সংস্থানজনিত দক্ষ ব্যবহার ব্যহত হবে। এই ধরনের অশৃঙ্খল পদায়ন কালের মধ্যে বিদ্যালয় পরিচালনা ও শিক্ষা পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
| বিদ্যালয় | অনুমোদিত পদ | প্রথম অবস্থার শিক্ষক সংখ্যা | বদলির পরে অবস্থা |
|---|---|---|---|
| নতুন পালড়া | 6 | 4 (2 শূন্য) | 3 (আরও 1 বদলি) |
| উত্তর মালুটিয়া | 6 | 5 | 4 |
| পোড়রা মডেল | 14 | 13 (1 শূন্য) | 15 (2 নতুন পদায়ন — অতিরিক্ত) |
| গুজুরী | — | সব পদ পূর্ণ | শূন্যপদ সৃষ্টি |
স্থানীয় অভিভাবক ও স্কুল পরিচালনা কমিটি যদি সক্রিয় হন, তাহলে এই সমস্যাগুলো দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কাছে আদেশের কারণ ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।
আমাদের কাছে প্রতিপক্ষ (উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস) থেকে প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য হাতে পৌঁছালে আপডেট জানানো হবে।