আজ মহাষ্টমী। নড়াইল জেলায় শারদীয় দুর্গোৎসবে কুমারী পূজা নিয়ে মণ্ডপ-মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছে। সকালে থেকেই শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষণীয় ছিল।
কুমারী পূজার আচার ও পরিবেশ
এ আচার-অনুষ্ঠানে সাধারণত অল্পবয়সী এক কন্যাশিশুকে দেবীর প্রতীকী রূপে পরিহিত করে বিশেষ আসনে বসানো হয়। পূজার সময় দেবীর গলায় পুষ্পমালা পরানো, দুই হাতে পদ্মφοল ধারণ এবং ভক্তদের আরাধনা—এসব রীতিনীতিই মণ্ডপগুলোতে দেখা গেছে। মন্ডপগুলোতে ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা ও শঙ্খের সুরে ধর্মীয় আবহ ছড়িয়েছে; উলুধ্বনি ও দেবী দুর্গা ও কুমারী দেবীর জয়ধ্বনি পুরো প্রাঙ্গণ অতিক্রম করেছে।
নড়াইল শহরের সূর্যেসন সংঘের পূজামণ্ডপসহ রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের মন্ডপগুলোতে হাজারো মানুষ পুরুষ-নারী, শিশুদের সঙ্গে এসে কুমারী পূজা দেখেছে। অনেকে এসেছেন পরিবার সদস্যদের সঙ্গে; কেউ বাবা-মার কোলেই, কেউ দিদির হাত ধরে পূজা দেখছেন—এভাবে উৎসবটি পারিবারিক রীতিতে উদযাপিত হচ্ছে। ভক্তদের অনেকে দেবীর নিকট শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
কুমারী পূজার সামাজিক ও ধর্মীয় অর্থ
ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী কুমারী পূজা নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে; একই সঙ্গে এটি মহাষ্টমীর অন্যতম ধর্মীয় আচার। পূজার পূর্ব রীতিতে কুমারীর বয়স সাধারণত ১৬ বছরের মধ্যে বসানো হয়। পূজারী বা পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে পূজা আরাধনা পরিচালিত হয় এবং অর্ঘ্য প্রদানের পর দেবীর গলায় পুষ্পমালা পরানো হয়। লাল শাড়ি সাজে কুমারী দেবীর দুই হাতে দুইটি পদ্মফুল রাখা হয় এবং ভক্তরা চরণে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করে প্রার্থনা করে থাকেন।
জেলার প্রদর্শনী ও মণ্ডপসংখ্যা
এইবার জেলার তিন উপজেলায় মোট ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলা ভিত্তিক মণ্ডপসংখ্যা নিম্নরূপ:
| উপজেলা | মণ্ডপ সংখ্যা |
|---|---|
| নড়াইল সদর | ২৪৯ |
| লোহাগড়া | ১৫০ |
| কালিয়া | ১৪৪ |
জনসমাগম ও নিরাপত্তা সচেতনতা
পূজামণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সকাল থেকেই বৃদ্ধি পেয়েছে। বহু মানুষ পরিবার নিয়ে এসেছেন; এতে মণ্ডপগুলোর আশপাশে পদচারিতাও বেড়েছে। বড় মণ্ডপগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও জনপরিবহন সংক্রান্ত সজাগতা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী পূজামণ্ডপগুলোতে যথাযথ পরিপাটি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে। প্রার্থনা ও দেবদেবীর আরাধনার পাশাপাশি অনেকে সামাজিক একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন।
উৎসবের প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিযা
কুমারী পূজা জনজীবনে উৎসবের আনন্দ ছড়ায়; ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্থানীয় বাজারগুলোও এতে প্রভাবিত হচ্ছে—ফুল বিক্রেতা, প্রসাধন সামগ্রীর দোকান, ও খাদ্য বিক্রেতাদের আগমন বাড়ে। কিন্তু উৎসবের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যথাযথ নিরাপত্তা ও পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
- অঙ্গসংগঠনের রীতি: কুমারীর সাজসজ্জা, মন্ত্রোচ্চারণ ও অর্ঘ্য প্রদানের মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন হয়।
- দর্শনার্থীর অংশগ্রহণ: পারিবারিকভাবে বহু মানুষ মণ্ডপে এসে পূজা দেখেছেন।
- মণ্ডপের বিস্তার: জেলায় তিন উপজেলায় মোট ৫৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মহাষ্টমীর এ দিনটি নড়াইলের শারদীয় উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। ভক্তরা দাবি করছেন, এ ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সামাজিক বন্ধন ও একতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে—এমনটাই এই উৎসবের সারমর্ম বলেই চলে।