লোহাগড়া (নড়াইল) থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে নড়াইল জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল ছালাম মঙ্গলবার বিকেলে লোহাগড়া পৌর এলাকা এবং উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনে তিনি আয়োজন ও নিরাপত্তাসহ পূজার সার্বিক ব্যবস্থাপনার নানা দিক খতিয়ে দেখেন এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরিদর্শনের রুপরেখা ও উদ্দেশ্য
অফিস সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক লোহাগড়ার নলদী ইউনিয়নের কয়েকটি মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় পৌরশহরের কয়েকটি পুরনো ও পরিচিত মন্দিরে যান। পরিদর্শিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- কচুবাড়ীয়া দশভুজা সার্বজনীন মন্দির
- রামপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির
- লক্ষ্মীপাশা শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা মন্দির
- ইতনা ব্যানার্জি বাড়ি দূর্গা মন্দির
- চরদৌলতপুর দুর্গা মন্দির
- নিতাই গৌর জিউর মন্দির (লোহাগড়া)
- ছাতড়া সার্বজনীন দূর্গা মন্দির
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মণ্ডপসমূহে দায়িত্বরত কমিটি ও জনসাধারণের সঙ্গে কথোপকথন করেন এবং পূজার প্রস্তুতি, জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
প্রশাসনিক উপস্থিতি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ
পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিনা সাত্তার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রুবেল শেখ ও মো: মেহেদী হাসান, লোহাগড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমান ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট পঙ্কজ বিহারী ঘোষ অন্ন। এছাড়া স্থানীয় পৌর ও উপজেলা পূজা পরিষদের নেতারা ও সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলার শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য
"এদেশে দুর্গাপূজা একটি সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ উৎসবে ভেদাভেদ নেই। ধর্ম যার যার, উৎসব সকলের"
জেলা প্রশাসক উক্ত কথাগুলো বলেন ও সকল পক্ষকে উৎসবশান্তি বজায় রাখার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন যে প্রশাসন ও স্থানীয় কমিটিগুলো মিলে নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
লোকাল প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
লোহাগড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও সম্প্রদায়িকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলোতে জেলা প্রশাসকের সরাসরি নজরদারি সৃষ্টিকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ এনে দিতে সক্ষম। উৎসবকালীন সময় মানুষজনের ভিড় বাড়ার কারণে নিরাপত্তা, স্যানিটেশন ও জনপরিবহন ব্যবস্থাসহ বহু সাংগঠনিক বিষয় ভালভাবে টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনিক সতর্কতা অপরিহার্য। জেলা প্রশাসকের এই পরিদর্শন স্থানীয় কমিটিগুলোর জন্য নির্দেশনামূলক এবং পূজা উদযাপনকে সুষ্ঠু রাখার দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতি ও প্রত্যাশা
পৌর ও উপজেলা স্তরের পূজা কমিটির নেতারা জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেন, প্রশাসনের সহায়তা থাকলে উৎসব নিরবে ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন: জেলা পূজা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বাবুলাল ভট্টাচার্য, লোহাগড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গৌতম দেওয়ান, পৌর পূজা পরিষদের সভাপতি কিশোর রায় ও সাংগঠনিক সম্পাদক অরুপ চক্রবর্তী সহ স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।
পাঠকদের উপযোগী তথ্য
স্থানীয়ভাবে যারা পূজায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য কয়েকটি ব্যবহারিক দিক:
- পজুয়ার দিনে বড় ভিড় হওয়ায় ব্যক্তিগত মূল্যবান জিনিস নিরাপদে রাখুন।
- প্রয়োজনে পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলুন এবং জরুরি সেবা নম্বর মনোযোগে রাখুন।
- পাবলিক স্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলুন।
জেলা প্রশাসকের এই তদারকি উৎসবের সময়টাকে শান্তিপূর্ণ, সুরক্ষিত ও সকলের জন্য উন্মুক্ত করে রাখার লক্ষ্যেই সংগঠিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।