বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলমান আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস কে কক্স বাজার পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি ও প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে বলে রেল সূত্রে জানা গেছে।
রুট সম্প্রসারণের প্রস্তাবনা ও সময়সূচি
রেলওয়ের প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা কমলাপুর থেকে রাতে রাত সাড়ে ৮টা ছেড়ে কক্স বাজারে সকাল ৬টায় পৌঁছানোর কথা। ফেরতি ট্রেনটি কক্স বাজার থেকে সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকায় পৌঁছাবে—এই সূচি রেলওয়ের আলোচ্য পরিকল্পনা হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন রুটে যাত্রা করতে গেলে ঢাকা থেকে কক্স বাজার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে প্রায় সাড়ে নয় ঘণ্টা।
বর্তমান সেবা ও চাহিদা
রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কক্স বাজারগামী ট্রেনে যাত্রীর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকা–কক্স বাজার রুটে রেলসেবা রয়েছে এবং রেলওয়ে পর্যায়ক্রমে কক্স বাজারগামী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সুজিত বিশ্বাস এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কারণ দেখিয়ে বলেন যে কক্স বাজার রুটে যাত্রীসংখ্যা বেশি এবং সেবা বাড়ালে যাত্রীদের সুবিধা হবে—এমনটাই রেল সূত্রে বলা হয়েছে।
"কক্সবাজার রুটে বিপুল যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এতে যাত্রীরা আরও স্বস্তি ও নিরাপদে পর্যটন শহরে যাতায়াত করতে পারবেন।"
রেলসেবার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
নতুন রুট চালু হলে কক্স বাজারে পর্যটন ও আনুষঙ্গিক পরিষেবায় প্রভাব পড়বে—বিশেষত পর্যটক আগমনে নাগরিক সেবা, লজিং-খাবার ও স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাহিদা বাড়তে পারে। রেলওয়ে যদি রুট সম্প্রসারণ করে, তাহলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি রেল যোগাযোগ হওয়ার ফলে কক্স বাজার আসা-যাওয়া সহজ ও আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী হবে বলে অভিমত রয়েছে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। একই সঙ্গে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বলা হয়েছে।
- নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণ: রেলওয়ে কক্স বাজারে ট্রেনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ স্কিম পর্যালোচনা করছে।
- রুটের পূর্বানুমান: বর্তমানে ঢাকা–কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে; ধাপে ধাপে সেবা বৃদ্ধি করা হবে।
- সম্ভাব্য সূচি: ঢাকা ছাড়া পথে থাকা স্টেশনগুলো থেকে সরাসরি কক্স বাজার যাওয়ার সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
রুট সম্প্রসারণে বিবেচ্য বিষয়
রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেছেন যে রুট সম্প্রসারণের আগে কক্স বাজার স্টেশনে সার্ভিসিং, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত বা অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের সুরক্ষা ও আরাম নিশ্চিত করতে ট্রেনের কর্মশক্তি, ভ্যান-সংস্থান এবং স্টেশন ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা / পরিকল্পনা |
|---|---|
| বর্তমান রেলসেবা | ঢাকা–কক্সবাজার রুটে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল |
| প্রস্তাবিত সার্ভিস | মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ |
| সম্ভাব্য চালু সময় | আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ (শর্তসাপেক্ষ) |
কক্স বাজারবাসীর জন্য এটি আনন্দমূলক খবর হলেও বাস্তবে নতুন সেবা চালু হলে স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও শহরের ভ্রমণ-পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে—যা নগর প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষকে সমন্বয় বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করবে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে পর্যটন শহরে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সুবিধাজনক রেল যোগাযোগ আরও বাড়বে।
কক্স বাজার: রেলসেবার এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ শহরের জনগণ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে—কিন্তু বাস্তবায়নের সঠিক সময় ও বিশদ পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা নেই।