নাটোরের লালপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১২ আগস্ট উপজেলা পরিষদ চত্বর ও ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির সময় সাংবাদিকদের উপর লাঞ্ছিতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছাত্রদলের তিন কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের নাম—শফিকুল ইসলাম শফি, জাহিদ হোসেন ও মামুন আলী—উল্লেখ করা হয়েছে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত পরিসর
আন্দোলন চলাকালে এনটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি সজিবুল হৃদয় ও দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে।
দলীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলের শৃঙ্খলা, ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ড সংগঠন কখনোই মেনে নেবে না। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সকল নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
“উপজেলায় কোনো কমিটি না থাকায় বহিষ্কৃতদের কোনো পদ-পদবীতে নাই। ফলে তারা সাধারণ কর্মী বা সমর্থক।”
এই মন্তব্যটি লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান নয়া দিগন্তকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাদের নিরাপত্তা
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় সাংবাদিক সম্প্রদায়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ঘটনার পর সাংবাদিকরা সমষ্টিগতভাবে নিরাপত্তা ও কার্যবিবেচনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—বিশেষ করে যখন প্রশাসনিক কর্মসূচি ঘিরে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলে।
প্রেক্ষাপট: ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ ও বিক্ষোভ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভের মূল কারণ ছিল ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। গত ১২ আগস্ট এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিলসহ ইউএনও কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করা হয় এবং সেই সময়েই সাংবাদিকদের লাঞ্ছনের অভিযোগ ওঠে।
ফলাফল ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কার ঘোষণা করলেও ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক পরিবেশে প্রশ্ন রেখে গেছে—বিশেষ করে সংবাদপেশার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান। দলীয় শৃঙ্খলা বহাল রাখতে বহিষ্কার নেয়া হলেও সমস্যার মর্মনীতিকটি সমাধান করতে আইনশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক পর্যায়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
- ঘটনার সময়: ১২ আগস্ট, উপজেলা পরিষদ চত্বর ও ইউএনও কার্যালয় ঘেরাউ রাজ্যের সময়
- বহিষ্কৃতরা: শফিকুল ইসলাম শফি, জাহিদ হোসেন, মামুন আলী
- ভুক্তভোগী সাংবাদিক: এনটিভি অনলাইনের সজিবুল হৃদয় ও দৈনিক মানবজমিনের রাশেদুল ইসলাম
নজরদারির দাবি ও পরবর্তী সম্ভাব্য ধাপ
ঘটনার ফলে সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষ আশা করেন ঘটনা যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা হবে এবং পেশাগত স্বাধীনতা বজায় রাখতে সরকারী বা প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিক্ষোভের কারণ | ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ |
| দলীয় পদক্ষেপ | তিন কর্মীকে বহিষ্কার |
| ভুক্তভোগী সাংবাদিক | সজিবুল হৃদয়, রাশেদুল ইসলাম |
এই ঘটনার প্রভাব স্থানীয় সংবাদকর্মী সম্প্রদায়কে সতর্ক করে দিয়েছে যে অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ঘটনাগুলো সংবাদে তুলে ধরার সময় তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে তাদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে এবং জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
WE NEWS নাটোর জেলা কনট্রিবিউটরের পাঠানো তথ্যানুযায়ী, ঘটনার আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করার চেষ্টা চলছে।