ঝালকাঠিতে কৃষকদের থেকে অনিয়ম করা কিংবা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পেলেই সরকারি পদক্ষেপে হয়েছে দ্রুততা। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগ মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সার্কুলারের মাধ্যমে ঝালকাঠি এলএসডি-র সংরক্ষণ ও চলাচল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বদলি করে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে পদায়ন করেছে।
দাবি ও তদন্তের প্রেক্ষাপট
স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া অমান্য করে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় এবং সরকারি মানদণ্ডের বাইরে ধান গ্রহণ করা হয়। আয়নালে ঘটনার তীব্রতা বেড়ে ওঠার পর গত ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং গুদামে থাকা ধান-চাল পরীক্ষা করেন। সেই পরিদর্শনের সময় গুদাম নিয়ে কৃষকদের নানা অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে—কিছু কৃষকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রতি বস্তা ধানের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে; একজন কৃষক জানান, প্রতি বস্তায় ১৩০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে এবং তিনজনের কার্ডের বিপরীতে মোট ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪২ কেজি ধান নেয়া হতো এবং নিম্নমানের ধানও সরকারি নির্ধারিত দামে ক্রয় করা হতো।
“গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না,”
— পরিদর্শনকালে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এই বক্তব্য রাখেন এবং বলেন, ভুক্তভোগী মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বদলির আদেশ ও নির্দেশনা
খাদ্য অধিদপ্তরের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ১০ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে ১১ আগস্ট থেকে তাঁকে তাত্ক্ষণিকভাবে কর্মবিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
অফিসিয়াল কাগজপত্রে সরাসরি তদন্ত ও সম্ভাব্য শৃঙ্খলাভঙ্গ দৃষ্টিতে বদলির নির্দেশে বলা হয়েছে—এই ধরনের অভিযোগ যাতে উপযুক্তভাবে যাচাই-বাছাই করা যায় এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
কৃষকদের দাবি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনায় সরাসরি জড়িত কৃষকরা ক্ষুব্ধ এবং দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায় রয়েছেন। তাদের বক্তব্যে প্রশাসনের কাছে ন্যায়পালনের দাবি উঠেছে। অভিযোগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কৃষক বলেন, এ ধরনের অনিয়ম আগে কখনো হয়নি। অন্যরা আশা করেন, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রমাণিত অনিয়ম হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- অভিযোগ: কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ ও নিম্নমানের ধান কেনা।
- প্রতিবেদন-ভিত্তিক পদক্ষেপ: অভিযুক্ত কর্মকর্তা বদলি ও তদন্তের নির্দেশ।
- পরিদর্শনকারী: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ৬ আগস্ট | গুদামের সরেজমিন পরিদর্শন এবং কৃষকদের অভিযোগ উত্থাপন |
| ৯ আগস্ট | খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন দ্বারা বদলির আদেশ জারি |
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত ফলাফলের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, যেসব চাল-ধান অনুপযুক্তভাবে ক্রয় করা হয়েছে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিহত করার ব্যবস্থা কিভাবে নেওয়া হবে—এগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এবং খাদ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত আদেশের আলোকে স্থানীয় উপরি কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেবে এবং তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কী পরিণতি হবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষায়।