খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকা থেকে ২৪টি গুইসাপ উদ্ধার এবং সেই সঙ্গে এক নারী আটক করেছে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। আটক নারী পরিচিতি শনাক্ত করা হয়েছে—তিনি হলেন প্রেমরাছো মারমা (৪৭), যিনি পানছড়ি উপজেলার কুরাদিয়াছড়া গ্রামের অংগিও মারমার স্ত্রী।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযানের সময়সূচি
জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে বুধবার রাত সাড়ে আড়াইটার দিকে চেঙ্গী স্কয়ার থেকে ফুটপাতে রাখা পাঁচটি বস্তায় গুইসাপ পাওয়া যায়। বন বিভাগের তদন্তে জানা গেছে, আটকের সময় প্রেমরাছো জানিয়েছিলেন তিনি চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট থেকে ২২ হাজার টাকা দিয়ে এই গুইসাপগুলো কিনে এনে বিক্রির উদ্দেশ্যেই খাগড়াছড়িতে নিয়ে এসেছেন।
আটক নারীকে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য খাগড়াছড়ি সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুর্জয় গোস্বামী জানিয়েছেন, ঘটনাটির বিষয়ে নিয়মিত অভিযোগ/মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুইসাপের অবস্থান ও পরে করা ব্যবস্থা
বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা নিশ্চিত করেছেন যে মোট ২৪টি গুইসাপ পাওয়া গেছে; এর মধ্যে ১০টি জীবিত এবং ১৪টি মৃত ছিল। জীবিত গুইসাপগুলো আলুটিলা এলাকার প্রাকৃতিক বনভূমিতে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগ মৃত বন্যপ্রাণীগুলো মাটিচাপা দিয়ে নিষ্প্রাণ করে দাফন করেছে বলে তারা জানায়।
| আইটেম | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট উদ্ধার | ২৪ |
| জীবিত | ১০ |
| মৃত | ১৪ |
| বস্তার সংখ্যা | ৫ |
বন বিভাগের মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বন্যপ্রাণী ধরলে বা শিকার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান চলবে। জেলা প্রশাসনও বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা ও পরিবহনের বিরুদ্ধে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
অভিযান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাইকারীভাবে বন্যপ্রাণীর ক্রয়-বিক্রয়ে ভূমধ্যস্বরূপ বাজারের উপস্থিতি আছে। অভিযানে পাওয়া জীবিত সাপগুলো বনভূমিতে ফেরানো হলেও মৃত সাপের উপস্থিতি বনভূমির অবৈধ সংগ্রহ ও পরিবহনের রেশ নির্দেশ করে।
স্থানীয় জনজীবন ও সতর্কবার্তা
খাগড়াছড়ি শহরের মতো জনবহুল এলাকায় বন্যপ্রাণী বিক্রির ঘটনা স্থানীয়দের জন্য ঝুঁকিও সৃষ্টি করতে পারে—বিশেষত সাপের মতো বিষধর প্রাণীর ক্ষেত্রে। বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন স্থানীয়দের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে যে অজানা কোন ব্যক্তি যখন প্রাণী বা প্রাণীর অংশ বিক্রির চেষ্টা করে তখন স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে এবং নিজের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সরাসরি লেনদেন থেকে বিরত থাকতে।
- যে কোনো বন্যপ্রাণী দেখলে স্থানীয় বন বিভাগ বা পুলিশকে দ্রুত জানাতে হবে।
- বনবিভাগ বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পর উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় মুক্তি বা প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
- অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসায় লিপ্ত থাকলে আইনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উদ্যোগ ও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হচ্ছে; তবু প্রত্যক্ষ অবৈধ লেনদেন রোধে আরও মোবাইল নজরদারি ও স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ একইসঙ্গে কাজ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছে।
এই ঘটনার তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে।