বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলা আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বর্ধিত রুটে ট্রেনটি চলাচল শুরু করতে পারে। এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও ফেনীসহ বিভিন্নوسط এলাকার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারবেন।
কেন এখন সময় গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে কক্সবাজারগামী ট্রেনে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে—তবে কুমিল্লা ও পাশের কয়েকটি জেলা থেকে সরাসরি চলাচলের সুযোগ নেই। ফলে ওই অঞ্চলের যাত্রীরা সড়কপথে কক্সবাজার পর্যন্ত এসে ট্রেনে চোখ রেখে ভ্রমণ করেন অথবা পুরো পথ সড়কেই করেন। রেলওয়ে জানায়,
“কক্সবাজারে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।”এই চাহিদা মাথায় রেখে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেন বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত সৃঙ্খলা ও যাত্রাসময়
রেলওয়ের ওয়ার্কিং টাইম টেবিল-৫৪ (ডব্লিউটিটি) অনুযায়ী বর্তমানে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ৯:২০-এ চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে পৌঁছায় দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা-র দিকে। পথে বিমানবন্দরসহ মোট ১২টি স্টেশনে ট্রেনটির থামার বিবরণ রয়েছে।
প্রস্তাবিত রুট সম্প্রসারণ অনুযায়ী মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছেড়ে আগামীর সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাতে পারে। ফিরতি পথে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ার সময় রাখা হবে সকাল ৯টা-এ। যাত্রা সময় ধরা হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। রেলওয়ে নিশ্চিত করেছে যে নতুন রুট চালু হলে সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হবে।
- লক্ষ্যজেলা: কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, ফেনীসহ পথের স্টেশনগুলো থেকে সুবিধা
- প্রস্তাবিত যাত্রাসময়: ঢাকা থেকে কক্সবাজার—রাত সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ৬টা (প্রস্তাব)
- ফিরতি: কক্সবাজার থেকে ঢাকা—সকাল ৯টা (প্রস্তাব)
বর্তমান কোকসবাজার রেলসংযোগ — কোন ট্রেনগুলো চলছে?
এখনো কক্সবাজার রুটে পৃথকভাবে কিছু আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলেছে। রেলওয়ে সূত্রে পাওয়া সময়সূচি অনুসারে:
| ট্রেন | কমলাপুর থেকে যাত্রা | কক্সবাজারে পৌঁছা |
|---|---|---|
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস | রাত ১১টা | সকাল ৭:২০ |
| পর্যটক এক্সপ্রেস | সকাল ৬:১৫ | দুপুর ২:৪০ |
প্রভাব ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
কক্সবাজার একটি পর্যটননগরী হিসেবে সারা বছর দেশি-বিদেশি পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রে আছেহ। রেলপথে আরেকটি সরাসরি আন্তঃনগর সার্ভিস যুক্ত হলে ভ্রমণ খরচ কমে যাওয়া, সময়ের সাশ্রয় এবং সড়কে চাপ কমার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও ফেনী অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরাও সুবিধা পাবেন—এটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ছাপ ফেলতে পারে।
তবে রেলওয়ে আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন রুটে চলাচলের সম্ভাব্য সমস্যা যাচাই করবে বলেও জানানো হয়েছে। কক্সবাজার রেলস্টেশন ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করেন, সময়সূচি অনুকূলে হলে আগত পর্যটক-যাত্রীদের সেবা বাড়ানো যাবে এবং সড়কে দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণের ওপর নির্ভরতা কমবে।
অবশ্য নতুন রুট চালু হলে যথাযথ নিরাপত্তা, প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা ও যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার কৌশলগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে—এ ছাড়া সময়সূচি ও ট্রেন পরিচালনায় যাত্রীদের অভিযোগ বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে রেলওয়েকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলেন, নতুন রুট কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন সংক্রান্ত সব দায়-দায়িত্ব সময়মত পূরণ করা হবে। কক্সবাজারবাসী ও আশপাশের জেলার যাত্রীদের চোখ এখন রেলের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে।
জান্নাতুল ফেরদৌস, কক্স বাজার প্রতিনিধি, WE NEWS