অপরাধ জয়পুরহাট জয়পুরহাট (19)

জয়পুরহাটে ক্লিনিকে প্রসবে নবজাতকের নিহতের অভিযোগ, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

জয়পুরহাট শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা সিভিল সার্জন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি চিকিৎসক-নার্সদের চেষ্টা ও শারীরিক জোর প্রয়োগে শিশুটি ক্ষতগ্রস্ত হয়ে মারা গেছে; অভিযোগ যাচাই করা হচ্ছে।

জয়পুরহাটে ক্লিনিকে প্রসবে নবজাতকের নিহতের অভিযোগ, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

জয়পুরহাট শহরের এক বেসরকারি ক্লিনিকে প্রসবের সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীর বর্ণনা ও ক্লিনিকের অবস্থান

অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, পাঁচবিবি উপজেলার কড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান কাজলের স্ত্রীর নাম মোছা. রহিমা খাতুন। তিনি জানিয়েছে, গাইনি চিকিৎসক নূর-উন নাহার নাজমীর পরামর্শে গত ৩ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে রহিমা জয়পুরের ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।

কাজল দাবি করেছেন যে, দীর্ঘ সময় প্রসব বেদনায় তার স্ত্রী কাতর থাকলেও সিজারিয়ান করার আহ্বান উপেক্ষিত থেকে স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা চালানো হয়। তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত রুটিন প্রসব পদ্ধতিতে চেষ্টার সময় চিকিৎসক ও নার্সসহ চার-পাঁচ জন তার স্ত্রীর হাত-পা ধরে শিশুটি টেনে বের করার চেষ্টা করেন; এতে নবজাতক শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হওয়া এবং পরে শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় মারা যায়।

"চিকিৎসকের অবহেলার কারণে আমার নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই।" — মোস্তাফিজুর রহমান

জয়পুর সিভিল সার্জনের পদক্ষেপ

এই অভিযোগ ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির পদ নামে সংক্ষিপ্ত পরিচয়
প্রধান ডা. সরদার রাশেদ মোবারক তত্ত্বাবধায়ক, জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল (৪০০ শয্যা)
সদস্য ডা. নাসিমা আক্তার নীনা সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি), একই হাসপাতাল
সদস্য ডা. মোর্শেদা খাতুন স্বপ্না সহকারী অধ্যাপক (ইনসিটু, গাইনি), ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অভিযোগের মূল দিকগুলো

  • অভিযোগকারী বলছেন—চিকিৎসক ও নার্সরা স্বাভাবিকভাবে প্রসব করানোর চেষ্টা করেন এবং শারীরিকভাবে হাত-পা ধরে টেনে নেওয়ার ফলেই শিশুটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে মারা যায়।
  • তালা-তর্খ ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই—অভিযোগে এমন ইঙ্গিত আছে।
  • ঘটনার বিষয়ে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপককে জায়গায় পাওয়া না যাওয়ার কথাও উল্লেখ আছে; ব্যবস্থাপক পরে ফোনেও সাড়া দেননি।

প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য ফলাফল

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্দেশে গঠিত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন—যেমন প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, রেফারেন্সে স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো, কিংবা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ। সিভিল সার্জন ডা. মো. আল মামুন জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

স্থানীয়দের মধ্যে ক্লিনিক-ভিত্তিক প্রসবসেবা নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে। একদিকে পরিবারের দাবি হাসপাতালে ত্রুটির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছেনা—ফলে প্রতিষ্ঠানের দায়-অদায় নির্ধারণে তদন্ত প্রতিবেদনকেই নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে দেখা হবে।

এই ঘটনায় স্বাস্থ্যসেবার মান, প্রসবকেন্দ্রগুলোর কার্যপ্রণালী, রোগী-পরিবারের সাথে সমন্বয় ও জরুরী অবস্থা মোকাবিলায় চিকিৎসক-নার্সদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতিকথ্য নিয়েও স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনার আইনগত দিক এবং তদন্ত সম্পন্ন হলে পরবর্তী কর্মকাণ্ড নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না দিলে জনগণের আস্থায় further উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।

এই সংবাদ সংগ্রহের সময় ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম ফোনে সাড়া দেননি—এ বিষয়ে করা প্রতিক্রিয়া আপডেট করা হবে যদি তারা লিখিত বা মৌখিক বক্তব্য দেন।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

19জয়পুরহাট

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো জয়পুরহাট, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব