জয়পুরহাট: মাঝ গ্রীষ্মের তাপদাহ ও বাড়তি বিদ্যুৎচাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে জয়পুরহাটে তীব্র লোডশেডিং জনজীবন কষ্টসাধ্য করে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েকদিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা ঘটছে, ফলে দৈনন্দিন কাজ ও যন্ত্রপাতি চালনায় বিঘ্ন ঘটছে।
সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান
জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য মতে জেলায় মোট গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। দৈনিক স্বাভাবিক বিদ্যুৎ চাহিদা মূল্যায়িত হয়েছে ৭২ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৮ থেকে ৩০ মেগাওয়াট, ফলে প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম শক্তি পৌঁছাচ্ছে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) জয়পুরহাট বিভাগের ক্ষেত্রে দৈনিক প্রয়োজন হিসেবে জানিয়েছে প্রায় ১৬ থেকে ১৬.৫ মেগাওয়াট, তাদের বরাদ্দ আসছে আনুমানিক ১৩ মেগাওয়াট।
| পরিমাপক | মান |
|---|---|
| জেলার মোট গ্রাহক | ~3,00,000 |
| দৈনিক চাহিদা (পল্লী সমিতি) | 72 মেগাওয়াট |
| জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ | 28–30 মেগাওয়াট |
| নেসকোর চাহিদা | 16–16.5 মেগাওয়াট |
| নেসকোকে আসা সরবরাহ | ~13 মেগাওয়াট |
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন; অনেকেই রাতের অন্ধকারে ঘুমাতে পারছেন না বলে জানায় স্থানীয়রা। তীব্র উত্তেজনার একটা পরিণতিও ঘটেছে—মিটার রিডারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে; খবর অনুসারে, পাঁচবিবির শ্রীমন্তপুরে সংঘটিত এই ঘটনার দায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ওই গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ ঘটনায় সমিতি ও নেসকো উদ্বিগ্ন হয়ে উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট পাঠিয়েছে।
- পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, জেলায় পাঁচটি উপজেলার ১০টি উপকেন্দ্র আছে যেগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা জরুরি।
- নেসকোও তাদের আওতাধীন উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছে।
- সরবরাহ বাড়ানো না হলে, লোডশেডিং আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে উভয় পক্ষই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
প্রতিবন্ধকতা কী বলছে কর্তৃপক্ষ
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক বলেন, চাহিদার তুলনায় অনুপাতে আমরা অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি, তাই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে কিছু নির্দেশনা এসেছে—দোকানপাট ও মল খোলা-বন্ধ নিয়ে এবং নিরাবশ্যক আলোকসজ্জা কমানোর আহ্বান। মহাব্যবস্থাপক বলেছেন, এই ধরনের বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে কিছুটা সহজ হবে।
“চাহিদার তুলনায় আমরা অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাচ্ছি। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন।” — আবু উমাম মো. মাহবুবুল হক, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (জিএম)
গ্রাহকদের দৈনন্দিন প্রভাব
স্থানীয় উপভোক্তা আমজাদ হোসেন বলেন, দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ দিচ্ছেনা; বিশেষত রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুম বাধাগ্রস্ত হয় এবং কাজকর্ম ব্যাহত হয়। ব্যবসায়ী ও পন্যশিল্পে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়া, চিকিৎসায় ও যোগাযোগে প্রভাব—এসব এখন গ্রাহকদের মাঝে সাধারণ উদ্বেগ। এছাড়া গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে মিলিয়ে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রত্যাশা
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নেসকো নিরাপত্তা জোরদারের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশের কাছে চিঠি পাঠানোয় প্রশাসনিক স্তরে কী সিদ্ধান্ত হবে তা নজরদারি করা হচ্ছে। সমিতি কর্মকর্তারা একে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কারণ অপ্রীতিকর ঘটনা ও উপকেন্দ্রের ওপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের দ্রুত স্বাভাবিক বিদ্যুতের প্রত্যাশা রয়েছে; একই সঙ্গে তারা চায় দুর্ভোগ কমাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যায়ক্রমে টেকসই সমাধান ও সরবরাহ উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। বিদ্যুৎ বরাদ্দ বাড়াতে না পারলে লোডশেডিং ও সামাজিক উত্তেজনা দুটোই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে যাচ্ছে।