জামালপুরে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে বুধবার বিদ্যালয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিকরা এবং নৈতিক মূল্যবোধের দিকে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা।
আয়োজক ও বিচারক
অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন জেলা দুপ্রক, জামালপুর; এতে সভাপতিত্ব ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন জেলা দুপ্রকের সভাপতি প্রফেসর ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী। বিচারক ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান, উপসহকারী পরিচালক আতিউর রহমান এবং জেলা দুপ্রকের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম।
ফলাফল ও পুরস্কার
প্রতিযোগিতায় জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং জামালপুর উচ্চবিদ্যালয় রানার্স আপ হিসেবে নির্বাচিত হয়। বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে নির্বাচিত হন জামালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দলনেতা উসমান গনি অয়ন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ক্রেস্ট, মেডেল, সনদ পত্র ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
- চ্যাম্পিয়ন: জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
- রানার্স আপ: জামালপুর উচ্চবিদ্যালয়
- শ্রেষ্ঠ বক্তা: উসমান গনি অয়ন (জামালপুর উচ্চবিদ্যালয়)
“উভয় দলের যুক্তিতর্কে সময়োপযোগী তথ্য উপাত্ত ছিল। বিতর্ক অনুষ্ঠানটি সত্যিই প্রাণবন্ত ছিল,”
এ কথাগুলো বলেছেন জেলা দুপ্রকের সভাপতি প্রফেসর ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী। তিনি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যুক্তি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দুর্নীতিবিরোধী বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানের পরিবেশ ও অংশগ্রহণ
প্রতিযোগিতায় দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। জেলা দুপ্রক ও দুদক সমন্বয়ে আয়োজনটি ছিল সরল-সুশৃঙ্খল; অনুষ্ঠানটি শুরুতেই জেলা দুপ্রকের পক্ষ থেকে আইন মহাবিদ্যালয়ের একজন দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রীকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আয়োজক | জেলা দুপ্রক (দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি), সমন্বয়ে দুদক জেলা কার্যালয়, জামালপুর |
| প্রধান অতিথি/প্রধান দায়িত্বে | প্রফেসর ড. মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকী (সভাপতি ও মডারেটর) |
| বিচারক | মো. কামরুজ্জামান, আতিউর রহমান, জাহাঙ্গীর সেলিম |
| প্রধান বিজয়ী | জামালপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় (চ্যাম্পিয়ন) |
আয়োজন সংগ্রহ করা তথ্য অনুসারে, প্রতিযোগিতার সময় শিক্ষার্থীরা দুর্নীতির বিভিন্ন রূপ—শিষ্টাচারহীনতা, ন্যায়বিচ্যুতি, অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িত অসদাচরণ ইত্যাদি—নিয়ে গঠনমূলক বিতর্ক উপস্থাপন করেন। বিচারকরা প্রতিটি দলের যুক্তি-তর্কের প্রাসঙ্গিকতা, তথ্যভিত্তিকতা ও উপস্থাপনার কৌশল মূল্যায়ন করেন।
প্রফেসর ড. মুজাহিদ বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দুর্নীতি বিরোধী মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের বিনোদনমূলক ও শিক্ষণীয় আয়োজন জরুরি। তিনি আরো বলেন, “বিতর্ক প্রতিযোগিতাকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে চিরকুট না দেখে মাথায় যুক্তি ও তর্কের বিষয়গুলো ধারণ করে তর্কযুদ্ধে অংশ নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীরা গ্রুপ-প্রস্তুতি ও স্বাধীনভাবে তথ্য অনুসন্ধান করে টপিক সম্বন্ধে পরিপক্ক ধারণা তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে। জেলার শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজসংগঠন পর্যায়ে এ ধরনের আয়োজন প্রশংসনীয় বলে তাঁরা মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্ররা জানান, এ ধরনের বিতর্ক কেবল পরীক্ষামুখী শিক্ষা থেকে সমাজমুখী শিক্ষায় স্থানান্তর ঘটাতে সহায়ক হবে। বিশেষত দুর্নীতি প্রতিরোধের মতো জটিল সামাজিক ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকা সমাজে নৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তারা মনে করেন।