জামালপুরের তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানাতে শনিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গ্যাস বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ও তত্পরবর্তী সময়ে কারখানাটি বন্ধ থাকার পর এই প্রথমবার ২১৬ দিনের বিরতি কাটিয়ে আবার গ্যাস পৌঁছলো।
কারখানার বর্তমান অবস্থা ও উৎপাদন শুরুর সময়রেখা
কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তার কথায়, গ্যাস এসে গেলেও সরাসরি উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না—প্রথমে বিভিন্ন ইউনিট ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রস্তুত রাখতে হবে।
“গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে উৎপাদন শুরুর আগে কারখানার বিভিন্ন ইউনিট ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অন্তত ১৫ দিনের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে।”
অর্থনৈতিক ও সরবরাহগত প্রভাব
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা সার কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া। কারখানাটি জামালপুরকে কেন্দ্র করে কমান্ড এলাকার উনিসটি জেলা-র কৃষি বাজারে সার সরবরাহ করে থাকে; এর মধ্যে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল উল্লেখযোগ্য।
কারখানার দীর্ঘ সময়ের বন্ধ থাকার ফলে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় স্থানীয় কর্মচারী, সরবরাহকারী ও কৃষি চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গ্যাস সংযোগ পুনরুদ্ধার হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শুরু হবে এবং উত্তর-মধ্যাঞ্চলের সার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারবে।
- বন্ধের মেয়াদ: ২১৬ দিন (ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানা বন্ধ)
- প্রতিদিনের উৎপাদন ক্ষমতা: প্রায় ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া
- উৎপাদন শুরুতে সময়: আনুমানিক ১৫ দিন (কারখানা কর্তৃপক্ষের হিসাব)
স্থানীয় প্রত্যাশা ও বাস্তব প্রস্তুতি
যমুনা সার কারখানার পুনরায় কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। তবে কর্তৃপক্ষের কথায়, বাস্তবে উৎপাদন শুরুর আগে যন্ত্রপাতি পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয় করতে হবে। এসব কাজ কিভাবে এবং কত দ্রুত সম্পন্ন হবে—এটি উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করবে।
কর্মচারী ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, গ্যাস সরবরাহ যদি স্থায়ীভাবে বজায় থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারখানাটি আবার পূর্ণক্ষমতায় উদয়িত হতে পারবে। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ নিয়মিত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বন্ধের মোট সময় | ২১৬ দিন |
| দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা | ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া (প্রায়) |
| উৎপাদন পুনরায় শুরুতে আনুমানিক সময় | প্রায় ১৫ দিন (যন্ত্রপাতি প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে) |
জামালপুরের এ ধরণের বড় কারখানার শুরু-বন্ধ উপজেলা ও জেলা অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা ও কারখানার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে এলাকার নের্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের কাছে নিয়মিত পরিস্থিতি জানানো গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি; তবে তারা বলছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে ১৫ দিনের মধ্যে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু সম্ভব। কৃষি মৌসুম ও সার সরবরাহের চাহিদা বিবেচনায় এটি উত্তর-মধ্যাঞ্চলের কৃষক ও বাজারের জন্য সময়োপযোগী দলিল হবে।