ঝালকাঠি থেকে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক লেনদেন নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে—ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য প্রদত্ত অর্থ ফেরত না পাওয়ায় স্থানীয় এক আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করানোর নির্দেশ পেয়েছেন।
মামলা করেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার পূর্ব চাঁদকাঠি এলাকার বাসিন্দা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হাচিবুর রহমান রাজু। মামলার বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন বুধবার (১২ আগস্ট) ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার ঘটনাপ্রবাহ
মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে যে, বাদী ২০২১ সালের ১২ মার্চ ইভ্যালির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে একটি বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি ডাবল ডিস্ক মোটরসাইকেল অর্ডার করেন। ২০২১ সালের ১৫ মার্চ তিনি ‘নগদ’ পদ্ধতিতে মোটরসাইকেলটির জন্য ১ লাখ ৬ হাজার ৯৪০ টাকা পরিশোধ করেন।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য অর্পণ না হওয়ায় ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ ৭ অক্টোবর ২০২১ সালে বাদীকে স্থানীয় শোরুম থেকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকার একটি চেক দেন। সেই চেক ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংক থেকে জানানো হয় সংশ্লিষ্ট হিসাবটি স্থগিত (ফ্রিজ) রয়েছে। এরপর নানা বার যোগাযোগের পরও বাদী না পায় পণ্য, না পায় প্রদত্ত অর্থ ফেরত।
আদালতের আদেশ ও পরবর্তী কার্যক্রম
ঝালকাঠি সদর আমলি আদালতের বিচারক মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মামলার প্রাথমিক শুনানি বিবেচনায় নিয়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলে জানা গেছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলবে।
"দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল কিংবা পরিশোধ করা অর্থ ফেরত পাননি বাদী। একাধিকবার যোগাযোগ ও সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল না পাওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়। আদালত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি বিবেচনায় নিয়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী চলবে।"
এই উদ্ধৃতিটি বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেনের বক্তব্য থেকে নেওয়া। আদালত বা অভিযুক্ত পক্ষের তরফে অন্য কোনো মন্তব্য সংবাদ প্রেরণের সময় প্রদান করা হয়নি।
স্থানীয় প্রভাব ও বিচারিক প্রেক্ষিত
এ ধরনের অভিযোগ স্থানীয় ক্রেতা-বাজারে আস্থাহানির সূচক হতে পারে—বিশেষত ই-কমার্স লেনদেনে নগদ প্রদান করে পণ্য না পেলে স্থানীয় ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার খোঁজেন। মামলাটি ক্রেতা অধিকার, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও অনলাইন লেনদেনের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে দেয়।
- তারিখ ও ঘটনার সারসংক্ষেপ—১২ মার্চ ২০২১ অর্ডার; ১৫ মার্চ ২০২১ অর্থ পরিশোধ; ৭ অক্টোবর ২০২১ শোরুম-চেক প্রদান; ২০২৬ সালের আগস্টে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি।
- অর্থরাশি—প্রাথমিক পরিশোধ ১,০৬,৯৪০ টাকা; বিকল্প শোরুম-চেক ১,৭৪,০০০ টাকা (চেকটি ব্যাংকে ফ্রিজ দেখানো হয়)।
- আদালতির সিদ্ধান্ত—প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১২ মার্চ ২০২১ | মোটরসাইকেল অর্ডার |
| ১৫ মার্চ ২০২১ | ১,০৬,৯৪০ টাকা পরিশোধ |
| ৭ অক্টোবর ২০২১ | শোরুম থেকে ১,৭৪,০০০ টাকার চেক প্রদান |
| ১১-১২ আগস্ট ২০২৬ | ঝালকাঠি আমলি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি |
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ই-কমার্স সংক্রান্ত বিতর্ক দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে মীমাংসা না হলে দীর্ঘমেয়াদে অনলাইন ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন আইনজীবী এবং নাগরিকেরা।
পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্য
এই ধরনের প্রতারণার শিকার হলে করণীয় হিসেবে সাধারণভাবে জানা দরকার—
- সম্ভব হলে লেনদেনের প্রতিটি প্রমাণ (চালান, ক্রয় নির্দিষ্টি, ব্যাংক ট্রান্সেকশন) সংরক্ষণ করবেন।
- পণ্য না পেলে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার সার্ভিসকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাবেন; তার নকল সংরক্ষণ করবেন।
- সমস্যা মীমাংসা না হলে নিকটস্থ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী সংস্থা বা স্থানীয় আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মামলা করার পথ নিতে পারেন।
এ রিপোর্ট তৈরি করার সময় অভিযুক্ত পক্ষ—ইভ্যালি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল বা চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন—এর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি বা তাদের পাঠানো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার বিচারের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে আদালত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের যে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
স্থান: ঝালকাঠি