নোয়াখালীর হাতিয়া উপকূলে ইঞ্জিন বিকল হয়ে এক লবণ বোঝাই বলগেট ডুবে একজন মাঝির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মো. সাবের (৬৫)—তিনি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার আবু আলীর ছেলে এবং ডুবে যাওয়া বলগেটের বার্বুচি ছিলেন।
কবে, কোথায় এবং কীভাবে
স্থানীয় সময় বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে লবণ বোঝাই এমভি তানিম নামের জাহাজটি হাতিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে হাতিয়া-সন্দ্বীপের মাঝামাঝি, রোহিঙ্গা চরের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের জাহাজ চ্যানেলে থাকা বলগেটটির ইঞ্জিন বিকল হয়। নিয়ন্ত্রণ হারায় বলগেটটি এবং ডুবে যায়।
উদ্ধার ও হতাহতের সংখ্যাকে ঘিরে দ্বৈত তথ্য
দূর্ঘটনায় বলা হচ্ছে বলগেটে থাকা লোকজনদের মধ্যে মো. সাবেরকে ছাড়া অন্যরা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারসংখ্যা সম্পর্কে রিপোর্টে ভিন্নতা রয়েছে। এক সূত্র জানায়, বলগেটে থাকা আরও সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, অন্য প্রতিবেদন বলছে কাছের ট্রলারগুলো আট মাঝি-মাল্লাকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসে। স্থানীয় সূত্রে এই দ্বৈত তথ্য পাওয়া গেছে।
- নিহত: মো. সাবের (৬৫)
- যাত্রা শুরু: চট্টগ্রাম থেকে ভোর ৪টা
- দুর্ঘটনা সময়: সকাল সাড়ে ৯টা (প্রতিবেদন অনুযায়ী)
- অবস্থান: রোহিঙ্গা চরের পশ্চিমে জাহাজ চ্যানেল, হাতিয়া-সন্দ্বীপ মাঝামাঝি
| বিষয় | প্রাপ্ত তথ্য |
|---|---|
| জাহাজের নাম | এমভি তানিম (লবণ বোঝাই) |
| দুর্ঘটনার কারণ | ইঞ্জিন বিকল এবং নিয়ন্ত্রণ হারানো |
| উদ্ধার/মৃত্যু | মো. সাবের নিহত; উদ্ধারের সংখ্যা রিপোর্টভিত্তিক ৭ বা ৮ জন |
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত বিষয়ে প্রশ্ন
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর কাছাকাছি থাকা মাছ ধরার ট্রলারের সহযোগিতায় বলগেটের মানুষদের উদ্ধার করে তীরে নেওয়া হয়। তারপর দুপুরে বার্বুচি মো. সাবেরকে চট্টগ্রামে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
“দুর্ঘটনা সম্পর্কে নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়নি; তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই মন্তব্যটি নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ ফয়সাল করেছেন। তবে কবে এবং কীভাবে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বা ডিপফল্ট প্রটোকল ব্যাহত হয়েছে, তা তদন্তে উঠে আসার কথা নয় কি?
কেন জরুরি—লোকাল প্রভাব ও সম্ভাব্য দায়িত্ব
এই ঘটনার কয়েকটি দিক স্থানীয় জীবিকা ও নৌ নিরাপত্তায় বড় প্রশ্ন তোলছে—একটি ছোট বলগেট কীভাবে সমুদ্রের অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে, চেকিং বা ডকুমেন্টেশন ছিল কি না, এবং ইঞ্জিন বিকলে ব্যাকআপ ব্যবস্থা ছিল কি না। এছাড়া নৌপুলিশের সঙ্গে কেন আপতকালীন যোগাযোগ স্থাপন হয়নি সেটিও গুরুত্বসহকারে দেখা দরকার।
স্থানীয় জেলে, ট্রলার মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা ছাড়া দূরসীমায় নৌ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে—তাই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা জানতে চাইলে এবং নৌ নিরাপত্তা কন্ট্রোল আরও শক্ত করার দাবি উঠবে কি না—এসব প্রশ্ন এখন স্থানীয় জনগণের মনে যথার্থ।
আমি ঘটনাস্থল, উদ্ধারকারীদের বর্ণনা ও নৌ পুলিশের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করেছি; তবে উদ্ধারসংখ্যার অনিশ্চয়তা ও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন পরবর্তী আনুষ্ঠানিক তদন্ত রিপোর্ট। এই প্রতিবেদনে যেখানে তথ্য ভিন্নতা আছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
হাতিয়ার এই ঘটনায় কোন নিয়ামক সংস্থা তদন্ত করবে, তদন্তের সময়সীমা কী হবে এবং পরিবারগুলো কি ধরনের সহায়তা পাবেন—এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নৌ পুলিশ থেকে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা চলছে।