নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটে যাওয়া একটি চুরির ঘটনায় হাসপাতাল ও শহরের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বহিঃবিভাগ থেকে এক রোগীর স্বজন বিবি ফাতেমার গলার থাকা দুটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সিলেট জেলার বাসিন্দা সিনারা বেগম (৫০) নামে একজন নারীকে আটক করেছে হাসপাতাল শৌচাগার বলিষ্ঠভাবে অভিযুক্তরা।
কীভাবে ধরানো হলো সন্দেহভাজন?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের আগের দিকে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় চক্রের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে ফাতেমার গলার চেইন দুটি খুলে নেয়। চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার পর রোগীর পরিবারের লোকজন সন্দেহজনক আচরণ দেখে সিনারাকে আটক করে তল্লাশি করে। তল্লাশিতে চেইন পাওয়া না গেলে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।
চিকিৎসকের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
“খবর পেয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ওই নারীকে সুধারাম মডেল থানায় নেওয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, সোনার চেইন দুটি গিলে ফেলেছেন। এরপর এক্সরে পরীক্ষার মাধ্যমে তার পেটে চেইন দুটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার পেট থেকে সোনার চেইন দুটি বের করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই বক্তব্যটি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমদ চৌধুরীর। তিনি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশকে খবর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট রোগী-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সুধারাম মডেল থানা।
চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ ও হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নারী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সার্জনদের পরামর্শ অনুযায়ী তার পেট থেকে সোনার চেইন বের করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং তাকে হেফাজতে রেখে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রশ্ন
এই ঘটনায় স্থানীয়রা প্রশ্ন করছেন—হাসপাতালের বহিঃবিভাগে এমন কি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই যে রোগী-স্বজনদের মূল্যবান সামগ্রী সহজে ছিনিয়ে নেওয়া যায়? রোগালয়ে বিচার-বিধি ও সিসিটিভি নজরদারি কতটুকু কার্যকর ছিল ইত্যাদি। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ও হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল ছড়িয়েছে।
- ঘটনার সময়: মঙ্গলবার সকাল/দুপুর (প্রতিবেদন অনুযায়ী)
- অভিযুক্ত: সিনারা বেগম, ৫০, সিলেট জেলার বাসিন্দা
- অবস্থা: একজন রোগীর স্বজনের গলায় থাকা দুইটি সোনার চেইন চুরি; অভিযুক্তের পেটে চেইন থাকার এক্সরে নিশ্চিত; ভর্তি ও তদন্ত চলছে
প্রশাসনিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
হাসপাতালের মতো জনসমাগমস্থলে সাশ্রয়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাহিদা অপরিহার্য। রোগী ও তাদের স্বজনেরা চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুরক্ষায় ভুগতে পারেন। এমন ঘটনার পর প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়রা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| চুরি হওয়া মালামাল | দুটি সোনার চেইন |
| অভিযুক্ত | সিনারা বেগম (৫০), সিলেট জেলা |
| আইনি পদক্ষেপ | সুধারাম মডেল থানায় নেওয়া হয়েছে, তদন্ত চলছে |
এই ঘটনার বিবরণ এখনও পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি; তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ভুক্তভোগীদের বয়ান সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়রা জানতে চাইছেন—চেইন উদ্ধার হবে কি না, আর এর পেছনে কোনো সুসংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও থানা কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যই এই রিপোর্টের ভিত্তি। ঘটনার প্রভাব, ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও সুরক্ষা জোরদারের বিষয়ে হাসপাতালে ও থানায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।
দিদারুল আলম, নোয়াখালী প্রতিনিধি, WE NEWS