হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে নিজেকে অন্য একজন চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার অভিযোগে মো. আরিফ মিয়াকে আটক করেছে জেলা প্রশাসন ও বিশেষ র্যাব ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯। অভিযানটি অনুষ্ঠিত হয় রবিবার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) রাত প্রায় আটটায়, সিআরবির অংশগ্রহণ ছাড়াও সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল নাদরুন বিন আকনের নেতৃত্বে টিমটি অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের পটভূমি ও অভিযানকালে পাওয়া তথ্য
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযানের আগে আরিফ চারজন রোগীকে দেখেছেন এবং ডা. মীর মাহবুব রহমানের নাম ব্যবহার করে বৈধতার ছদ্মবেশে প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়েছেন। অভিযানকালে তাকে চিকিৎসাগত যোগ্যতা ও সেবা প্রদানের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে বলা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানান অভিযানকারী কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রশাসন তাকে আটক করে।
অভিযান সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে জড়িত একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে ডা. মীর মাহবুব রহমান নামের চিকিৎসকের প্যাড ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে চিকিৎসকের পরিচয় দিয়ে রোগীদের দেখাতেন। স্থায়ীভাবে বা কালক্রমে এমন প্র্যাকটিস করার অভিযোগ রয়েছে।
পূর্বের অভিযান ও শাস্তি
হবিগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসকের বিষয়টি নতুন নয়; বছরে পর বছর বিভিন্ন অভিযানে অনেকে আটক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্যোগে বিভিন্ন সময় ভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে এবং কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে জেল ও জরিমানাসহ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
| তারিখ/বছর | স্থান | ভুয়া চিকিৎসকের নাম | প্রয়োগ করা শাস্তি/নোট |
|---|---|---|---|
| গত নভেম্বরে | ঘোষপাড়া এলাকাঃ (র্যাব-৯ অভিযান) | মমতাজ বেগম রিনা | আটক |
| গত বছরের ১ জুলাই | মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী জেনারেল হাসপাতাল | আব্দুর রহমান | ১ মাস কারাদণ্ড ও ৫০,০০০ টাকা জরিমানা |
| গত বছরের সেপ্টেম্বর | নবীগঞ্জ শহরের হাসপাতাল রোড | কাজল নাথ | ৩ মাস কারাদণ্ড |
| নভেম্বর ২০২০ | শায়েস্তানগর মুন জেনারেল হাসপাতাল | মাসুদ করিম | আটক (অন্য ডাক্তারের পরিচিতি ব্যবহার) |
জনস্বাস্থ্য এবং প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ
ভুয়া চিকিৎসকদের সক্রিয়তা গ্রাম-শহর নির্বিশেষে রোগীদের জন্য বড় ঝুঁকি দাঁড় করায়—ভুল সঠিক রোগনিদান, অনভিজ্ঞতার কারণে ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত অথবা অনুপযুক্ত ওষুধ প্রদান সবই জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। সচেতন মহল বলছে, শহরের আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সরকারি নিবন্ধন ও নিয়মিত তদারকি জরুরি।
- সরকারি পদক্ষেপ: নিয়মিত অভিযান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়ানো।
- স্থানীয় দায়িত্ব: সচেতন নাগরিক ও রোগীদের সশস্ত্র হওয়ার আহ্বান—পরামর্শ গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা।
- আইনী ব্যবস্থা: ধরা পড়া ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখা।
অভিযান চালানো কর্মকর্তারা জানান, ভুয়া চিকিৎসাবিদদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয়, র্যাব ও পুলিশ মিলে যৌথভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তারা স্বীকার করেন যে, পর্যাপ্ত র্রেগুলেশন ও নিয়মিত তদারকির অভাবের কারণে নতুনভাবে অপরাধীরা সুযোগ নেবেই।
পরবর্তী প্রক্রিয়া
আটক আরিফকে বর্তমানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন আর সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট অধিকারিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংগঠনিক প্রতিনিধিরা স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং অননুমোদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার যাঁরা পরিচালনা করেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুততর এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে আরও কঠোরভাবে অভিযান চালিয়ে এ ধরনের অবৈধ চিকিৎসা প্রদান বন্ধ করতে হবে—এই উদ্বেগ স্থানীয়রা বারবার প্রকাশ করছেন।