অপরাধ হবিগঞ্জ হবিগঞ্জ (51)

করোনাকালের ১৫ দিন নিয়ম আগের মতো বহাল, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে সাক্ষাত নিয়ে স্বজন-আইনজীবীদের ভোগান্তি

করোনাকালের নিরাপত্তাজনিত বিধি হিসেবে শুরু হওয়া '১৫ দিনে একবার' সাক্ষাতের নিয়মটি বছরখানেকেরও বেশি সময় ধরে বহাল থাকায় বন্দি ও তাদের স্বজনেরা সমস্যায় পড়ছেন; আইনজীবীরাও মামলার জরুরি পরামর্শ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

করোনাকালের ১৫ দিন নিয়ম আগের মতো বহাল, হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে সাক্ষাত নিয়ে স্বজন-আইনজীবীদের ভোগান্তি
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাতের নিয়মকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির কথা বলছেন বন্দি-স্বজন ও আইনজীবীরা। সংবাদ সংগ্রহের সময় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন যে করোনা মহামারির কারণে শুরু হওয়া এবং তখনকার নিরাপত্তাজনিত বিধি হিসেবে চালু করা ১৫ দিন পর একবার সাক্ষাতের নিয়মটি বহু বছর পার হলেও এখনও কার্যকর রাখা হয়েছে।

সাক্ষাত বৃদ্ধির দাবি ও সময়সূচির অসুবিধা

স্বজনদের বক্তব্য, বর্তমানে নির্ধারিত সময়ে কারাগারে গিয়ে বন্দির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ সীমিত হওয়ার কারণে জরুরি প্রয়োজনে দেখা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের সদস্যরা বারবার আসা-যাওয়া ও অপেক্ষার ফলে মানসিক ও আর্থিক চাপে পড়ছেন। তারা জানান, কোনো বন্দির শারীরিক অসুস্থতা, পারিবারিক দুর্যোগ কিংবা আইনগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দ্রুত যোগাযোগ করার প্রয়োজন হলে নিয়মিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে—এটা সবার পক্ষে কার্যকর বা সহনীয় নয়।

আইনজীবীদের কথাও এখান থেকে আলাদা নয়। মামলার কাগজপত্র, পরামর্শ বা দ্রুত আইনগত প্রস্তুতির জন্য অনেক সময় আর সাক্ষাতে উপস্থিত থাকা জরুরি হয়। কিন্তু বর্তমান নিয়ম মেনে আইনজীবীরাও প্রায়ই অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, যা মামলার স্বার্থে অসুবিধা সৃষ্টি করছে বলে তারা জানিয়েছেন।

অনিয়ম-ঘুষের অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের নীরবতা

স্বজনদের মধ্যে অনেকে কারাগারের অভ্যন্তরে অনিয়মের কথাও উত্থাপন করেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়ম ভাঙা ও নির্ধারিত সময়ের বাইরেও প্রতিদিন সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়ার জন্য অনেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত দেন—যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন ও বহিরাগতভাবে যাচাই করা যায়নি। কারাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জেনেছে আমাদের সংবাদদল।

  • প্রধান অভিযোগ: করোনাকালীন ১৫ দিন পর সাক্ষাতের নিয়ম এখনও প্রচলিত
  • অতিরিক্ত সমস্যা: জরুরি যোগাযোগ ও চিকিৎসাগত বার্তার আদানপ্রদান আটকে পড়া
  • অভিযোগের তীব্রতা: নিয়ম ভাঙার বিনিময়ে ঘুষ প্রদানের দাবি

ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে সাধারণ নিয়ম পুনর্বিবেচনা এবং অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের আশার কথাও আছে—কারাগার কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বন্দি ও তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে যাবে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয় প্রভাব ও সামাজিক দিক

এই সীমিত সাক্ষাত ব্যবস্থা মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকা পরিবারগুলোতে মানসিক চাপ বাড়ায়—বিশেষত যারা দরিদ্র ও দূরবর্তী এলাকা থেকে আসেন। এমন পরিস্থিতি শিশু, বৃদ্ধ বা অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া আইনজীবীদের ক্ষেত্রে দ্রুত পরামর্শ না পেলে প্রতিরোধমূলক বা সময়োপযোগী আইনি ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হতে পারে, যা মামলার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

আশঙ্কা/অভিযোগ প্রভাব
১৫ দিন পর সাক্ষাত নিয়ম জরুরি যোগাযোগ বাধাপ্রাপ্ত, ভ্রমণ ও খরচ বৃদ্ধি
ঘুষ দিয়ে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ ন্যায়বিচারে অনিশ্চয়তা, দুর্নীতির সুযোগ
কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য নেই বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগের তদন্ত বাধাগ্রস্ত

স্থানীয় জনস্বার্থে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। কারাগারের অভ্যন্তরীণ নীতি যদি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও আইনি কাগজপত্রের কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিয়ে কার্যতর জবাব দেওয়া জরুরি।

আশার বানী ও দাবি

ভুক্তভোগীরা বলছেন, যদি বর্তমানে প্রয়োগ করা বিধি-নিষেধগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে সাক্ষাতের ব্যবস্থা বাড়ানো হয়, তাহলে বন্দি ও তাদের পরিবারদের ওপর চলমান মানসিক ও আর্থিক চাপ কমবে। পাশাপাশি তারা তৎপর তদন্তের মাধ্যমে ঘুষ-অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি রেখেছেন।

অবশ্য এই অভিযোগ ও দাবি নিয়ে কারাগার কর্তৃপক্ষের মন্তব্য না পাওয়ায় নিয়মের প্রয়োগ ও সম্ভাব্য অনিয়ম সম্পর্কে সমগ্র চিত্র এখনও সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট না। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন বন্দি-পরিবার ও আইনজীবীরা।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

51হবিগঞ্জ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো হবিগঞ্জ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব