ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সংঘটিত সংঘর্ষে নিহতের নাম আক্কাস খান (৫৫) এবং গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁর ছেলে জসিম খান (৩২)। আহত ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা আক্কাস খানকে ছুরিকাঘাতে ও মোটা হাতে আঘাত করা হয়; পরে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরিসর ও পুলিশ対応
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ ঘটনার খোঁজ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন এবং তাদের ধরতে অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রস্তুত চলছে।
“খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা হামলার পর পালিয়ে গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ঘটনার পটভূমি
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ লেগে ছিল। রবিবার বিকেলে যখন জসিম খান বাড়ির বাইরে একা ছিলেন, তখন প্রতিবেশী সজল খান ও আরও কয়েকজন তাঁর উপর হামলা চালায়। জসিমের চিৎকার শুনে তিনি ও তাঁর বাবা আক্কাস ঘটনাস্থলে এসে পাল্টা রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তাঁদের আঘাত করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান; পরে পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় আক্কাসকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল, পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
চিকিৎসা ও মৃত্যুর কারণ
পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আক্কাস খানের মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে। অপরদিকে গুরুতর আহত জসিমকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁর অবস্থার আপডেট চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও অনিশ্চয়তা
ঘটনার পরে এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন ও সংশয়গ্রস্ত। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের কারণে সীমাহীন উত্তেজনা দেখা দেয় বলে প্রতিবেশীরা জানান। স্থানীয় নেতারা ঘটনার তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন, যাতে কোনো পক্ষ আইন নিজের হাতে না নেয় এবং ভবিষ্যতে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হয়।
- নিহত: আক্কাস খান (৫৫)
- আহত: জসিম খান (৩২), বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
- স্থল: গোবিন্দপুর গ্রাম, নলছিটি উপজেলা, ঝালকাঠি
| সময়গত রেখা | ঘটনা |
|---|---|
| রবিবার বিকেল | জসিমের উপর সজল খান ও সহযোগীদের হামলা |
| তৎক্ষণাৎ | আক্কাস ছেলে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেন; বাবাও আহত হন |
| রাতে | দুইজনকে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় |
| রাত সাড়ে ১১টা | ঢাকায় নেওয়ার পথে আক্কাসের মৃত্যু |
আইনি প্রক্রিয়া ও অনুসন্ধান
ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানিয়েছেন যে, তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন এবং দেখতে পাচ্ছেন এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনো ঘটনা নাও হতে পারে — তবে মামলার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। হামলার সঙ্গে যে ব্যক্তিরা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, চিকিৎসা নথি এবং ঘটনাস্থলের আলামতকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে ধরা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ অভিভাবক এবং গ্রামের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছে। অপরদিকে পরিবার ও এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা অনুসরণ করে প্রতিবেদন আপডেট করা হবে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ, ঘটনার সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য থাকলে নলছিটি থানায় যোগাযোগ করতে পারেন।