মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর এক ডোবায় থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক যুবতীর মরদেহের পরিচয় এখনও ধরে উঠানো যায়নি। ঘটনার তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে চলেছে; বিভিন্ন স্টেজে পুলিশ তদন্ত করলেও শেষ পর্যন্ত নিহতের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলাটি জেলা পর্যায়ের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মুন্সিগঞ্জ কার্যালয় থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার পরিচিত চিত্র
পিবিআই ও পূর্বের থানার কাগজপত্র অনুযায়ী, ওইদিন সকালে সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামের কাছে রাস্তার ধারে কচুরিপানার আড়ালে মরদেহটি পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের বয়স আনুমানিক ২৫ বছর ধরা হয়। গলার এবং দেহের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রে কাটা বা আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কিছু বস্তুতে মর্ত্যবর্গের চিহ্ন রয়েছে—যা তদন্তকারীদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।
পুলিশ ফুটেছে যে, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে এক জোড়া ছেঁড়া প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, মাটি-আচ্ছাদিত একটি মাস্ক এবং নিহতের পোশাকের ভিতর থেকে নগদ টাকা পাওয়া যায়। সেগুলোর বর্ণনা ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তদন্তকারীরা ঘটনাক্রম ও সময় নির্ধারণে কাজ করে আসছে।
মামলা ও তদন্তের রূপ
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত উপাদান ও প্রাথমিক প্রতিবেদনের আলোকে সেই বছরেরই সিরাজদিখান থানায় হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ছিল ২৫; দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সিরাজদিখান থানার তদন্ত থেকে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং পরে পিবিআই কে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই কর্তৃপক্ষ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং মৃতদেহের পোশাক, উদ্ধারকৃত স্যান্ডেল-ও অন্যান্য উপাদান তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হতে পারে। তবে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতের পরিবারের সন্ধান মেলেনি; ফলে ঘটনার পরিপূর্ণ চিত্র গঠন করা কঠিন হয়েছে।
তথ্য-সাক্ষ্য উদাহরণের ভূমিকা
তদন্তকারীরা মনে করছেন, স্থানীয় কেউ যদি কোনো তথ্য দেয়—যেমন ওই ব্যক্তির পরিচয়, ঘটনার সময়ের অদ্ভুত চলাফেরা, বা তখনকার অচেনা লোকজনের কথা—তবে হত্যা মামলার তদন্তে গুরত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে অনুরোধ করা হয়েছে যে মৃতদেহ বা ঘটনাসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য থাকলে তা জানানোর জন্য।
পিবিআই মুন্সিগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে: ০১৩২০-০২৮৬০৪
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নতাড়া
নিহত ব্যক্তির পরিচয় না পাওয়ায় স্থানীয়রা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষজনের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়ে গেছে। পরিচয় না মিললে বিচার প্রক্রিয়া স্পষ্ট সীমানায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন। সময়ের সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ নষ্ট হওয়ার বাধা রয়েছে—তাই দ্রুত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ জরুরি মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
- ঘটনার তারিখ: ২৪–২৫ নভেম্বর, ২০২০ (ঘটনার অনুমান সময়)
- স্থান: সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়ন, গোয়ালবাড়ি এলাকার পাশে একটি ডোবা
- অবস্থানগত অলংকার/উপকরণ: ছেঁড়া প্লাস্টিক স্যান্ডেল, একটি মাস্ক, পোশাকের ভেতর নগদ টাকা
পিবিআইর আহ্বান ও পরবর্তী ধাপ
পিবিআই মঙ্গলবার থেকে স্থানীয়ভাবে তদন্ত আরও তীব্র করেছে। তারা চাইছে যে কোনো ব্যক্তির কাছে যদি ঘটনার শুরুর আগে বা পরে ওই এলাকায় অস্বাভাবিক ব্যাপার লক্ষ্য করা হয়ে থাকে, তা জানান। পিবিআই যে নম্বরে যোগাযোগ চাইছে তা হল ০১৩২০-০২৮৬০৪। তদন্তকারী দল আইনি প্রক্রিয়া ও ফরেনসিক উপাত্তের ভিত্তিতে সাক্ষ্য খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে কাজটি দ্রুত সমাধানের আশা বজায় রাখলেও, ছয় বছর পরও পরিচয় না পাওয়ায় কৌতূহল ও উদ্বেগ মিশ্র চিত্র রয়ে গেছে। পিবিআই কর্তৃপক্ষ বলছে, সঠিক তথ্য পেলে হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুমের আবহচিত্র স্পষ্ট হবে এবং বিচারিক ব্যবস্থায় পরবর্তী ধাপ নেওয়া সহজ হবে।