চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৩ বিজিবি) গতরাতে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে মোট ৫২ বোতল মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ছিল ৩৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় কাফ রিলিফ সিরাপ ও ১৭ বোতল ভারতীয় মদ, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা.
কোথায় ও কখন অভিযান চালানো হয়
৫৩ বিজিবি সূত্র জানায়, রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টায় মাসুদপুর বিওপি’র একটি টহল দল শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের ড্যাইসাপাড়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩৫ বোতল কাফ রিলিফ সিরাপ পায়। এর কিছু পরে রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে মনোহরপুর বিওপি’র টহল দল দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৭ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে।
আইনানুগ ব্যবস্থা ও হস্তান্তর
উদ্ধারকৃত সব পণ্য স্থানীয় শিবগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষের নিকট আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৫৩ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকের প্রবেশ রুখতে তারা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
“মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, পুশ ইন প্রতিরোধ এবং যেকোনো ধরণের মাদক ও অবৈধ চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
উপরোক্ত মন্তব্যটি ৫৩ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি মাসের সমষ্টিগত ফলাফল
বিজিবি জানায়, এই অভিযানের পরও চলতি অক্টোবর মাসে তাদের অব্যাহত অভিযানমালে এখন পর্যন্ত ২৩৭ বোতল বিভিন্ন প্রকার নেশাজাতীয় সিরাপ এবং ৫৩ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে; এতে এক জন অভিযুক্তও রয়েছে।
- সময়সূচি: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৮টা ও রাত ১০:১৫ মিনিটে পৃথক অভিযান।
- অবস্থান: মাসুদপুর বিওপি (ড্যাইসাপাড়া) ও মনোহরপুর বিওপি (মনোহরপুর গ্রাম)।
- জব্দকৃত পণ্য: ৩৫ বোতল কাফ রিলিফ সিরাপ, ১৭ বোতল ভারতীয় মদ।
- বর্তমান বাজার মূল্য (আনুমানিক): প্রায় ৪০,০০০ টাকা।
| আইটেম | এই অভিযানে জব্দ | চলতি অক্টোবর মাসে মোট জব্দ |
|---|---|---|
| নেশাজাতীয় কাফ রিলিফ সিরাপ | ৩৫ বোতল | ২৩৭ বোতল |
| ভারতীয় মদ | ১৭ বোতল | ৫৩ বোতল |
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
সীমান্ত-বেষ্টিত এলাকায় মাদকদ্রব্যের তস্করি ও চোরাচালান বারবার পর্যায়ক্রমে ধরা পড়ে। স্থানীয়রা বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা দুর্বল হলে সীমান্তশহরের সাধারণ মানুষও অপরাধ ও নেশাসংক্রান্ত সমস্যায় আরো ক্লিষ্ট হবে। বিশেষত কফ-রিলিফ নামক সিরাপ অঞ্চলে তরুণদের মাঝে দুষপ্রভাব ফেলতে পারে—এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকরা আগেও সতর্ক করেছেন।
বিজিবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও থানা-নথি অনুযায়ী আইনানুগ অনুসন্ধান ও সম্ভাব্য জড়িত চেন চিনে বের করার কাজ চলছে। অভিযানের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্ত বা তৎপরতাকারী চক্র শনাক্ত করতে হলে আরও তদারকি ও পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পরবর্তী কী হতে পারে
সংস্থাগুলো বলছে, সীমান্ত পুঁজি রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উদ্ধারকৃত দ্রব্যাদি মূলত স্থানীয় পুলিশি আদালতে প্রেরণ করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী ইউনিটগুলোকে সাধারণ জনগণকে সচেতন করে মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ বাড়াতে বলা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক প্রতিরোধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে এ ধরনের অভিযানের ধারাবাহিকতা জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এসব অভিযান কীভাবে অপরাধব্যবস্থায় ফলাফলের দিকে এগোচ্ছে—তার উপরই নির্ভর করবে নানা পর্যায় থেকে মাদক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা।