চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে গোবরতলা ইউনিয়নের দেলবাড়ি গ্রামের এরফান আলীর বাসায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং দুইজনকে আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ধরা পড়েছে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার শেরপুর গ্রামের লুদন মিয়া ও স্থানীয় দেলবাড়ি গ্রামের জোহরা বেগমকে।
অভিযান ও নেতৃত্ব
পুলিশ বলছে, অভিযানটি গোপন সূত্রের তথ্যে পরিচালিত হয়। জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনা ও সদর মডেল থানার অফিসার-ইন-চার্জের তত্ত্বাবধানে এসআই মো. আব্দুর রাজ্জাক নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স অংশগ্রহণ করে। প্রাথমিকভাবে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
আটক এবং জব্দের বিবরণ
পুলিশি সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দকৃত মালামালের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| নাম | ঠিকানা/পাড়া | জব্দকৃত পরিমাণ |
|---|---|---|
| লুদন মিয়া | শেরপুর গ্রাম, শায়েস্তাগঞ্জ থানা, হবিগঞ্জ | ১ কেজি গাঁজা |
| জোহরা বেগম | দেলবাড়ি গ্রাম, গোবরতলা ইউনিয়ন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর |
পুলিশের বক্তব্য ও প্রত্যাশা
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ তাদের সপক্ষ অবস্থান রেখেছে এবং আইনের সম্পূর্ণ প্রয়োগ করা হবে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন—
“মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।”
পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
দেলবাড়ি গ্রামের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গ্রামপাড়া অনেক জায়গায় মাদকদ্রব্যের প্রবেশ রোধে স্থানীয় কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হচ্ছে। পুলিশের এই ধরনের অভিযান স্থানীয় নৈরাজ্য রোধে গুরুত্বপূর্ণ হলেও জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও উদ্যোগ অপরিহার্য বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
আইনগত প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য পরবর্তী ধাপ
আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে—যেখানে জব্দকৃত গাঁজার প্রাথমিক পরীক্ষাসহ আইনানুগ তদন্তের পরে চার্জশিট প্রস্তুত করা হবে। অভিযানের তদন্ত বিভাগ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কোনও ব্যক্তির সন্ধান পাচ্ছে কিনা তাও যাচাই করবে।
পুলিশকে সহযোগিতার আহ্বান
- স্থানীয়রা যদি মাদক বিক্রি বা সংরক্ষণের কোনো তথ্য জানেন, পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
- তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ, তাই ভয় পেলেও তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- সদর মডেল থানা ও জেলা পুলিশ আরও অভিযানের মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে বলে সূত্রে জানানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সম্পর্কিত কয়েকটি অভিযান পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে এসেছে; এই ধরনের উদ্ধার অভিযান স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কতটা প্রভাবিত করবে তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। আপাতত পুলিশ ভ্রাম্যমাণ দল ও থানা পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে চলেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক کارروাই, মামলার বিস্তারিত ও প্রসেসিং সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারের জন্য সদর মডেল থানার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়—তবে রিপোর্ট করার সময় পুলিশের নির্দেশ ও নির্ধারিত নীতি মেনে চলতে হবে।