উপকূলীয় জেলা বরগুনার প্রধান স্বাস্থ্যপরিষেবা কেন্দ্র ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে শিশু সেবা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তন ও হামের প্রভাবে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হাসপাতালে বর্তমানে কোনো স্থায়ী শিশু বিশেষজ্ঞ নেই। ফলে ক্ষুদ্র ও নাবালক রোগীদের চিকিৎসাসেবা সীমিতভাবে চলছে এবং রোগীদের ভিড় বেড়ে গেছে।
দৈনন্দিন চিত্র ও জনবল সংকট
হাসপাতালের শিশু বিভাগে বরাদ্দ ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে প্রতিদিনই গাদাগাদি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ও রোগীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০ জনেরও বেশি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে; অনেকেই মেঝেতে শুয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। হাসপাতালের একমাত্র মেডিকেল অফিসার নিয়েই ওয়ার্ড চালানো হচ্ছে।
“জনবল সংকটটা এখন এতটাই তীব্র হয়ে গেছে যে, এই ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এখানে শিশুর একজন কনসালটেন্ট নাই। আমি বায়োপোস্ট মেডিকেল অফিসার, কিন্তু প্রতিদিন এতগুলো রোগী আমারই একারই দেখা লাগতেছে। এটা আসলে খুবই মানে অবর্ণনীয় কষ্ট হয়ে যায়।”
এ কথা বলেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা আক্তার, যিনি বর্তমানে শিশুসেবা সামলাচ্ছেন।
পদশূন্যতা ও উদাহরণ
হাসপাতালের অবস্থা আরেক দিক থেকে চিত্রিত করেন প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সূত্র। ২০১০ সালে এই হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও, অনুমোদিত চিকিৎসক পদের সংখ্যা ছিল ৮৩টি; ফিলহাল কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। এর ফলে সাধারণত গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগগুলোতে চিকিৎসকশূন্যতা দেখা যায় এবং সামান্য জটিলতা ধরা পড়লেই রোগীদের বরিশাল বা ঢাকায় রেফার করতে হচ্ছে।
| বিন্দু | সংখ্যা/অবস্থা |
|---|---|
| জেলা জনসংখ্যা (আলাপসূত্র) | প্রায় ১২ লাখ |
| হাসপাতাল শয্যা | ২৫০ শয্যা |
| শিশু ওয়ার্ড শয্যা | ৫০ শয্যা |
| ওয়ার্ডে প্রতিদিন থাকা শিশু | ১২০+ |
| অনুমোদিত ডাক্তার পদের সংখ্যা | ৮৩টি |
| বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক | ১৫ জন |
রোগী ও পরিবারদের সমস্যা
অসুস্থ শিশুর বাবা-মা-আদিবাসীদের বর্ণনায় দেখা গেছে, বাইরে গেলে ভিজিট ফি ও ভ্রমণের খরচ বাড়ায় অনেকে রেফারাল মেনে নিতে পারেন না। একজন মা বলেন, বাইরে গেলে একবার ভিজিট করতে ৭০০–৮০০ টাকা লাগে, ফলে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহুগুণ ব্যয় হয়ে যায়। রেফারলে যাওয়া না গেলে শিশুদের জরুরি বিশেষ চিকিৎসা সময়মতো না পেয়ে পরিস্থিতি নির্মম হয় — এমন অভিযোগও উঠেছে।
- শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় সঙ্কটজনক রোগী বৃদ্ধি মোকাবিলা কঠিন।
- কম চিকিৎসক ও অতিরিক্ত রোগীর চাপের ফলে ব্যক্তিগত মেডিকেল অফিসারের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়ে।
- জটিলতা দেখা দিলে রোগীদের বরিশাল বা ঢাকায় রেফার করতে হয়, ফলে সময় ও অর্থ খরচ বাড়ে।
প্রাসঙ্গিক পরিণতি ও স্থানীয় প্রভাব
বরগুনা জেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রধান ভরসাস্থল হিসেবে এই হাসপাতালে পরিপূর্ণ মানসম্পন্ন শিশু সেবা না থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। ছোটখাটো জটিলতা চিকিৎসা না পেয়ে রোগ প্রতিকূলতর হলে স্থানীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়বে— পরিবারগুলোকে দেয়াজাতীয় ব্যয় বহন করতে হবে, এবং সময়মতো রেফার না করলে শিশুর জীবনঝুঁকিও বাড়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণ আশা করছেন দ্রুতভাবে শিশুর কনসালটেন্ট পদ পূরণ করা হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডাক্তার নিয়োগ করা হবে। তা না হলে সামনের দিনগুলোতে চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে এবং জেলা স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।