বরগুনা শহরের প্রধান সড়কে শুক্রবার সকালে স্থানীয় সংগঠনগুলো মিলিয়ে একটি মানববন্ধন আয়োজন করে যেখানে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত ভবিষ্যতের দাবি জোরালোভাবে উচ্চারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দ্রুত বিনিয়োগ ও ন্যায়সংগত রূপান্তর দরকার।
স্লোগান ও সংগঠনসমূহ
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বে স্লোগান ছিল:
“নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনই”
এই কর্মসূচি ছিল বৈশ্বিক 'Global Week of Action' কার্যক্রমের অংশ এবং তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ও আসন্ন COP31-এর প্রাক্কালে বাস্তবায়িত হয়। স্থানীয় প্রয়াসকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বহু স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সংগঠন।
কেন্দ্রীয় বক্তব্য ও দাবি
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ধরা—বরগুনা শাখার সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম নেছার, সদস্য সচিব মুশফিক আরিফ, সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান চুন্নু, টিআইবির অ্যাক্টিভ সিটিজেন গ্রুপের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল, ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি অলিউল্লাহ আলামিন, এবং আলোর পথিক যুবক ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান সাবু। বক্তারা মূলত তিনটি প্রধান দাবি সামনে রেখেছিলেন:
- জীবাশ্ম জ্বালানিতে সরাসরি অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে।
- জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
- জনপ্রয়োজনে দ্রুত, ন্যায্য এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করে নবায়নযোগ্য শক্তিতে স্থানান্তর বাস্তবায়ন করতে হবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও কার্যক্রম
মানববন্ধন শেষ হওয়ার পর অংশগ্রহণকারীরা নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরতে পার্শ্বচর্চা হিসেবে প্রচারাভিযান চালায় এবং লিফলেট বিতরণ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। বক্তৃতায় আশা করা হয়, এই ধরনের স্থানীয় উদ্যোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জলবায়ু নীতিতে প্রভাব ফেলবে।
সংগঠক ও বক্তাদের তালিকা
অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং বক্তব্যকারীদের নাম ও সংগঠনগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
| সংগঠন / ভূমিকা | প্রতিনিধি |
|---|---|
| ধরা (বরগুনা শাখা) | অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম নেছার, মুশফিক আরিফ |
| ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশ | উপস্থিত শিল্পী/সংগঠক (বিশেষ পরিচয় সূত্রে) |
| ধ্রুবতারা ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন | অলিউল্লাহ আলামিন (বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি) |
| আলোর পথিক যুবক ক্লাব | আতিকুর রহমান সাবু |
| বিডি ক্লিন, বরগুনা সাইক্লিং কমিউনিটি | সহ-আয়োজক হিসেবে অংশগ্রহণ |
পর্যাপ্ততা ও স্থানীয় প্রভাব
বরগুনার মতো নিম্নভূমি ও উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ু ঝুঁকি এলাকার বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, কেবল প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়; স্থায়ী সমাধান হবে—যেখানে শক্তির উৎসগুলোই স্বচ্ছ এবং কম কার্বনযুক্ত। স্থানীয় সংগঠনের সেই আহ্বান ছিল শক্তি রূপান্তরকে ন্যায়সঙ্গত ও অর্থায়নসমৃদ্ধ করে বাস্তবায়ন করার জন্য।
পথে যা করা যাচ্ছে
মানববন্ধনে উঠে আসা বাস্তবধর্মী কিছু নির্দেশনা, যা স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য এবং প্রয়োগযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছিল:
- নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানো—জরুরি জ্ঞাতব্য ও সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা।
- স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পর্কে তথ্য ও প্রশিক্ষণ প্রদান।
- সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে খাতভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার দাবি তোলা।
অনুষ্ঠান সম্পর্কে organisers-এর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ছিল—এ ধরনের কর্মসূচি শুধুই আহ্বান নয়; এটি জনভিত্তিক চাপ সৃষ্টি করে নীতি নির্ধারকদের কাছে বাস্তব সমাধান পৌঁছে দেওয়ার একটি হাতিয়ার। বরগুনার জনজীবন ও পরিবেশ সুরক্ষায় এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।