বাগেরহাটের জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকের কাছে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়াতে থাকে এবং পাশের কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন লেগে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, বিকট শব্দ এবং সঙ্গে সঙ্গে চোখে পড়ার মতো কালো ধোঁয়া দেখা গেলে চারপাশে আতঙ্ক ছড়ায়। আগুন এত দ্রুত বিস্তার করে যে চত্বরের কয়েকটি মোটরসাইকেল এড়িয়ে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। স্থানীয়রা পরে গণনা করে বলে ঘটনাস্থলে ৮ থেকে ৯টি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়ে যায়—সংবাদ সূত্রভেদে সংখ্যায় ভিন্নতা আছে।
আহত ও উদ্ধার
অগ্নিকাণ্ডে আহত হন অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদুল ইসলাম (৫৫) ও একজন শিশু। খবর পাওয়ার পর ফরিদুল প্রাণ বাঁচাতে হসপিটালের সামনে পূর্বদিকে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দেন; পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহত শিশু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের উপ-সহকারী পরিচালক সাইদুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের সূত্রপাত অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বলেই ধারণা করা হচ্ছে এবং დაახლოებით এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন কার্যত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
“অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে,”
স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদুল ইসলাম (জাদু) বলেন, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর মোটরসাইকেল আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি জানান, আগুন লেগে যাওয়ার মুহূর্তে মোটরসাইকেল সরানোর সুযোগই পাননি।
হাসপাতাল ও জনসাধারণের নিরাপত্তা
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণে দেখা গেছে, ধোঁয়া হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, পুরোনো ভবনের সামনে দাঁড়ানো অ্যাম্বুলেন্সের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে ধোঁয়া দ্রুত ভবনে প্রবেশ করে এবং এ কারণে রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা ভীতি অনুভব করেন। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুটুল ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, হাসপাতাল চত্ত্বরের ভেতরে যে কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে।
- ঘটনাস্থল: বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুরোনো ভবন সামনে
- সময়: মঙ্গলবার, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে (সংবাদ সূত্র অনুসারে)
- আহত: ফরিদুল ইসলাম (৫৫) এবং এক শিশু (নাম উল্লেখ নেই)
- ব্যাপক ক্ষতি: স্থানীয়ভাবে প্রায় ৮–৯টি মোটরসাইকেল পুড়ে যাওয়ার রিপোর্ট
ঘটনার পরবর্তী কর্মসূচি ও তদন্ত
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টিম ঘটনাটির কারণ নির্ণয়ে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণে কাজ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ঘটনার তৎসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছে।
| প্রশ্ন | অবস্থা/উত্তর |
|---|---|
| বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ | অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার (প্রাথমিক অনুমান) |
| ফায়ার সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া | দ্রুত টিম পাঠিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ |
| মানবিক ক্ষতি | আহত: ২ (অধ্যায়িত), হতাহতের কথা জানা যায়নি |
প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তৃপক্ষের বিবরণ মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে হাসপাতাল এলাকায় যানবাহন পার্কিং ও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার শুশৃঙ্খলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগী-পরিবার এবং সাধারণ জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি বলে দেখছেন স্থানীয় কয়েকজন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বাগেরহাট স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করে ঘটনার পুরো তদন্ত সম্পন্ন করার পর বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে।