বাগেরহাট: মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে বারোর দিকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের পুরাতন ভবনের প্রধান গেটের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্সে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন লাগা ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালক ফরিদ হোসেন দগ্ধ হন এবং পাশের মোটরসাইকেল আটটি পুড়ে গেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালে রোগী নেওয়ার জন্য আসা ওই অ্যাম্বুলেন্সে হঠাৎ শব্দ হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে আশে-পাশের মোটরসাইকেলগুলোও পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগী-স্বজনরা সরে যেতে শুরু করেন।
দমন ও উদ্ধারকাজ
খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মী-কর্মসূচি পরিচালনা করে এবং ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বলেন,
“এসে দেখি একটি অ্যাম্বুলেন্স ও পাশে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বলছে। ঘটনাস্থলটি হাসপাতালের একটি দোতলা ভবনের সামনে হওয়ায় আমরা দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। দুপুর ১টার মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঝুঁকি নেই।”
আদি রিপোর্ট অনুযায়ী দগ্ধ চালককে প্রথমে স্থানীয়ভাবে সেবা প্রদান করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্ত
হসপিটালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, অ্যাম্বুলেন্স থেকেই আগুনের সূত্রপাত করে এবং সেখান থেকেই পাশের মোটরসাইকেলগুলো আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, হাসপাতালের স্টাফদের মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে বর্তমানে রোগী বা হাসপাতালের কোনও বড় অবকাঠামোগত ক্ষতির খবর নেই। ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ নিরূপণ করতে তদন্ত করা হবে।
আসন্ন পদক্ষেপ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অগ্নিকাণ্ডের কথা শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান রাসেলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সে কিভাবে গ্যাস লিকেজ বা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তা ও অগ্নিকাণ্ডে মোট কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত শেষে জানানো হবে।
তথ্যসংক্ষেপ
- অনুষ্ঠানিক সময়: মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে (প্রাথমিক রিপোর্ট)
- আহত: অ্যাম্বুলেন্স চালক ফরিদ হোসেন (দগ্ধ)
- ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল: ৮টি মোটরসাইকেল পুড়ে গেছে
- রোগী/কর্মকর্তাদের অবস্থা: বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি
| বিবরণ | সংখ্যা / অবস্থা |
|---|---|
| অ্যাম্বুলেন্স | অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত (সূত্রে অনুযায়ী গ্যাস লিকেজ সন্দেহ) |
| মোটরসাইকেল | ৮টি পুড়ে যায় |
| রোগী/কর্মকর্তা | কোনো মৃত্যুর খবর নেই |
ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ বলছে দ্রুততার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে হাসপাতালের প্রধান ভবন ও চিকিৎসাসেবা বড় ধরনের ক্ষতির থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবু অ্যাম্বুলেন্সে গ্যাস লিকেজের কারণ স্পষ্ট করতে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এই ঘটনায় হাসপাতালের রোগী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও দ্রুত দমনকাজ ও তৎপর কর্তৃপক্ষের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সম্ভব দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।