ঢাকা–কক্সবাজার রেলপথে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বর্তমানে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে, সবকিছু ঠিক থাকলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ট্রেনটি নতুন রুটে চলতে পারে—রেলের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা সুজিত বিশ্বাস এই তথ্য জানিয়েছেন।
কেন বাড়ানো হচ্ছে পরিষেবা?
রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার করিডরে যাত্রী চাহিদা বাড়ছে এবং বর্তমানে চলমান ট্রেনগুলোতে প্রায়ই আসন পূর্ণ থাকে। এই চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেনসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা আশা করেন নতুন রুট চালু হলে নির্ঘাত পর্যটক ও স্থানীয় যাত্রীদের ভ্রমণ সুবিধা বাড়বে এবং টিকিটপ্রাপ্তির সমস্যা কমবে।
প্রস্তাবিত সময়সূচি ও স্টপেজ
রেলওয়ের দেয়া প্রাথমিক সময়সূচি অনুসারে, মহানগর এক্সপ্রেসের ৭২১ ও ৭২২ নম্বর ট্রেনগুলো ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টা-এ ছেড়ে কক্সবাজারে পৌঁছাবে ভোর ৬টা-এ। ফেরত মতে কক্সবাজার থেকে সকাল ৯টা-এ ছেড়ে ঢাকা পৌঁছবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা-এ।
| যাত্রা | রওনা | গন্তব্যে পৌঁছাবার সময় |
|---|---|---|
| ঢাকা → কক্সবাজার (৭২১/৭২২) | রাত সাড়ে ৮টা | ভোর ৬টা |
| কক্সবাজার → ঢাকা (ফিরতি) | সকাল ৯টা | সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা |
বর্তমানে মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এবং ভোর সাড়ে ৩টা-এ চট্টগ্রামে পৌঁছায়। কমলাপুর ছাড়ার পর বিমানবন্দরসহ মোট ১২টি স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি রয়েছে—এই স্টেশনগুলো থেকেও সরাসরি কক্সবাজার যোগাযোগের সুবিধা পাওয়া যাবে।
“ঢাকা-কক্সবাজার রুটটি রেলওয়ের জন্য লাভজনক।”
কোন স্টেশনগুলোতে থামে?
রেলওয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মহানগর এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ার পর বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার (কিশোরগঞ্জ), আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী এবং চট্টগ্রামের কুমিরা স্টেশনে থামে। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়াও পথে থাকা এসব এলাকায় থেকে যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছাতে পারবেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
আগস্টে নয়—রানিং সার্ভিস অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা–কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত দুটি জোড়া বিরতিহীন আন্তঃনগর এবং চট্টগ্রাম থেকে দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলছে। রেলের সূত্রে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে চার জোড়া থেকে পাঁচ জোড়া পর্যন্ত পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে—যদি চাহিদা ও অবকাঠামো সমর্থন করে।
কক্সবাজারে প্রভাব ও প্রস্তুতি
কক্সবাজার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় ট্রেন সংযোগ বাড়লে আসনসংকট কমবে এবং ভ্রমণ ব্যয়ও কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হবে বলে পর্যটক ও ট্রাভেল এজেন্টরা মনে করেন। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য—হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে ট্রেন চলাচল বাড়ানোর জন্য রেলস্টেশন, প্ল্যাটফর্ম ও টিকিটিং ব্যবস্থার প্রস্তুতি, কোচ ও লোকবল যোগান ও সিকিউরিটি ব্যবস্থাও জোরালো করতে হবে বলে রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পরবর্তী ধাপ ও সময়রেখা
- রেলের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও কোচ বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
- নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অবকাঠামো ও স্টেশন প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
- টিকিটিং সিস্টেমে নতুন রুট যুক্ত করে যাত্রীর বিজ্ঞপ্তি প্রদান।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন এই সার্ভিস চালু করা সম্ভব। স্থানীয় প্রশাসন ও রেল বিভাগে এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা বাকি থাকায় চূড়ান্ত সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিষয়ে রেলওয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশিত।
জান্নাতুল ফেরদৌস, কক্সবাজার প্রতিনিধি
WE NEWS