বগুড়া জেলায় পুলিশের বিভিন্ন বিল-ভাউচারে জালিয়াতির নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি অর্থের অনুমিত ক্ষতি করেছেন অভিযোগে গঠন করা তদন্ত কমিটি জানায়, ভুয়া ভ্রমণ ভাতা (টিএ) বিল তৈরি করে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় তিন কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সন্ধান মিলেছে।
অনুসন্ধানের সূত্রপাত ও প্রাথমিক অনুসন্ধান
ঘটনাটি প্রথম অনুৎপন্ন হয় যখন বগুড়া পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ দপ্তরীয় কাজে তাঁর কম্পিউটার আইডিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। সূত্রে বলা হয়েছে,
“গত ১৯ আগস্ট সকালে দাপ্তরিক কাজ করার সময় তিনি দেখতে পান, তাঁর কম্পিউটার আইডিতে অস্বাভাবিকতা রয়েছে।”
পরে জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে বিকেলে আইডির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর অনুসন্ধান চালানো হয়। তখন দেখা যায় পুলিশ সুপারের আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন সদস্যের নামে টিএ বিল তৈরি করে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তের বিস্তার ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্তকরণ
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশের কার্যালয়ের অফিস সহকারী রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিটর ফিরোজ আলমের নাম আসে। তদন্ত শুরুর পর বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত আরও সদস্যদের ব্যাংক হিসাব যাচাই করলে অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পড়ে। তদন্তের কেন্দ্রস্থলে উঠে আসে কয়েকটি সময়কালের উল্লেখযোগ্য ঘটনার ধারা:
- কমিটি গঠন: ২৬ আগস্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
- তদন্তের সময়সীমা: তদন্ত কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- জিজ্ঞাসাবাদ: ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্তে মোট প্রায় ৩০ জনের নাম আসে—তাদের মধ্যে কেউ বর্তমান সময়ে বগুড়ায় কর্মরত, আবার কেউ অনান্য জেলায় দায়িত্বে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন দাবি করেন, তাদের ব্যাংক হিসাবেও টাকা জমা হলেও পরে সেই অর্থ তাঁকে ফেরত দিতে হয়নি; বরং রাজিবুল ইসলাম ও ফিরোজ আলমের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
পেন্ডিং তথ্য ও যাচাইয়ের ধারা
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুলিশের বক্তব্য যাচাই করার জন্য ব্যাংক লেনদেন, টিএ বিল, রেজিস্ট্রার ও হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। অভিযোগপত্র এবং ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের রেকর্ড মিলিয়ে সত্যতা স্থির করার চেষ্টা চলছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রবিধান অনুসরণ করা হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
এই ঘটনা বগুড়া জেলার পুলিশের আভ্যন্তরীণ হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা ও তদারকির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। সিভিল নাগরিকদের মধ্যে প্রশাসনের গতিশীলতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতি প্রত্যাশা বাড়বে। একই সঙ্গে কারও নামে প্রমাণ সাপেক্ষ সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত তদন্তই হৃদ্যকেন্দ্র হতে হবে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
| আইটেম | তথ্য |
|---|---|
| অনুমিত আত্মসাত | প্রায় ৩ কোটি টাকা |
| তদন্তে নাম উঠে আসা সদস্য | প্রায় ৩০ জন |
| এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ | ২০ জন |
জেলায় এই ধরনের আর্থিক অনিয়ম সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত বিজ্ঞপ্তি ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ডের ওপর নির্ভর করে আগামী সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে অন্যান্য পদক্ষেপ এবং আইনগত ব্যবস্থার বর্ণনা প্রকাশ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রকৃত পরিধি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে করণীয় আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে জেলা পুলিশ ও তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনই সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা রাখবে।