বগুড়ার পুলিশি সূত্র জানায়, বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান সাহীন (বহুল পরিচিত ভিপি সাহীন)কে ডিবি পুলিশ আটক করেছে। একই অভিযান থেকে তার কয়েকজন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও অভিযানের প্রেক্ষাপট
পুলিশ বলছে, অভিযানটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে চালানো হয়। অভিযানে আটকরা ছিলেন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে—তথ্যে বলা হয়েছে যে ভিপি সাহীন চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার এলাকায় আত্মগোপনস্থলে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে বগুড়ায় আনা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
“চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানা এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে বগুড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে।”
কারা গ্রেপ্তার হয়েছেন — নামাদি
প্রাথমিক প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তিদের নামগুলো নিম্নরূপ:
- সাজেদুর রহমান সাহীন — বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি; সাবেক খরনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
- আবু জাফর সিদ্দিক রিপন — জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি (গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে)।
- মো. সাব্বির — পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য (গ্রেপ্তার)।
- মো. ফেরদৌস — পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য (গ্রেপ্তার)।
| নাম | পদবী/পরিচিতি |
|---|---|
| সাজেদুর রহমান (ভিপি সাহীন) | বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি; সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান |
| আবু জাফর সিদ্দিক রিপন | জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, সিনিয়র সহসভাপতি |
| মো. সাব্বির | পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ — সদস্য |
| মো. ফেরদৌস | পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ — সদস্য |
আইনি ধার্য ও পুলিশের বক্তব্য
পুলিশ সূত্রে জানায়, ভিপি সাহীনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি মামলা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন সংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার গ্রেপ্তারকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং 'মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে'।
“মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। এর আগে গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ”
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবোধক বিষয়াদি
ভিপি সাহীন বগুড়ার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—একদিকে তিনি দলীয় অঙ্গসংগঠনের জেলা সভাপতির পদে আছেন, অন্যদিকে ওই অঙ্গসংগঠন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার পরিচিতি ছিল। তার গ্রেপ্তার স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী রাজনৈতিক পরিবেশে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলতে পারে—বিশেষত ওই সংগঠনের পূর্বপ্রকাশিত কার্যক্রম ও স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে এর প্রভাব কেমন হবে তা বিবেচ্য বিষয়।
গ্রেপ্তার সংক্রান্ত পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও পুলিশি ব্যাখ্যা সম্পর্কে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা বা সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে সেটি স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে গুরুত্বসহকারে জানানো হবে। আপাতত পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদেরকে বগুড়ায় নিয়ে এসে আদালতের নির্দেশমত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং মিডিয়াকে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনাটি বগুড়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে—বিশেষভাবে ওই ব্যক্তির সংগঠনিক পরিচয় ও বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের কর্যকারিতা সম্পর্কে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে প্রতিবেদনে আপডেট দেওয়া হবে।