বগুড়ার ধুনট পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন (৪৫) কারাবন্দি অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে, বলে জানিয়েছেন ধুনট থানা পুলিশ ইনচার্জ অনিকুল ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত ঘটনাচক্র
| বাস্তবতা | বর্ণনা |
|---|---|
| নাম | সোহরাব হোসেন |
| বয়স | ৪৫ বছর |
| নাগরিক পরিচিতি | ধুনট পৌর এলাকার সদরপাড়া গ্রামের রহম আলী হাজীর ছেলে |
| নিহতের অবস্থান | বগুড়া জেলা কারাগার (কারাবন্দি) |
| মৃত্যুস্থল | শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| গ্রেপ্তারি | ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি নির্বাচনী প্রচারের ঘটনায় অভিযুক্ত—পুলিশ ২ আগস্ট গ্রেপ্তার করে |
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় ২ আগস্ট সোহরাবকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি বগুড়া জেলা কারাগারে ছিলেন।
কারাগারের বর্ণনা ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
বগুড়া জেলা কারাগারের সুপার আসাদুর রহমান সংবাদকর্মীদের জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সোহরাবের তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তিনি মারা যান।
“বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়,”
ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম উপরের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের স্ত্রী রনি খাতুন সংবাদকর্মীদের অভিযোগ করেছেন যে, কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তার স্বামীকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়া হয়নি। তিনি দাবি করেছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না হওয়ায় তার স্বামীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায় এবং পরে হাসপাতালে নিলে মৃত্যু হয়।
ঐ অভিযোগে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা বা বিস্তারিত চিকিৎসা নথি এখনো প্রকাশ হয়নি। প্রশাসন ও কারাগার কর্তৃপক্ষ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কি ব্যবস্থা নেবে—তার ওপর এখন নজর থাকছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন
কারা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ মৃতদেহ হস্তান্তরের পর মূলত প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপগুলি সম্পন্ন করেছে। তবু কয়েকটি প্রশ্ন স্থানীয়ভাবে উঠে এসেছে:
- কারাগারে বন্দিদের আরোগ্যকল্পে নিয়মিত কিভাবে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে?
- নিহতের কাছাকাছি সময়ে কী ধরনের মেডিকেল রিপোর্ট বা পরিচালন প্রচলন ছিল?
- পারিবারিক অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কি কোনো স্বাধীন তদন্ত করা হবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও কারাগার কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া দরকার। আমরা প্রশাসনিক সূত্র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তৎক্ষণিক ব্যাখ্যা চেয়েছি; প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাদের কোনো বিস্তৃত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনি ও মানবিক পরিপ্রেক্ষিত
কারাবন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনা সাধারণত কড়া বিধি ও নিয়ম অনুসারে তদন্তের দাবির জন্ম দেয়। সংশ্লিষ্ট আইন ও মানবাধিকার সংস্থা এই ধরনের ঘটনায় নজর রাখে—কারণ কারাগারে থাকা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এবং পরিবারের অভিযোগ বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর ও উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে।
পরে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানাব।