বগুড়া—বগুড়া শহরের স্টেশন রোডের পুরান বগুড়া ওয়াপদা গেট এলাকায় রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় সরকারি আজিজুল হক কলেজ-এর তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতের নাম তামজিদ হাসান বাঁধন (২২)।
দুরঘটনার পর্যবেক্ষণ
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাঁধন বিকেলে কলেজের নিজ বিভাগে গিয়ে তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণ করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তিনি মোটরসাইকেলে স্টেশন রোড দিয়ে যাওয়ার সময় পুরান বগুড়া ওয়াপদা গেট এলাকায় একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। ধাক্কার উত্তাপে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
ঘটনাস্থলে পড়ে বাঁধন গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত ৯৯৯-এ খবর দেয়ার পর বগুড়া সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পটভূমি ও প্রাথমিক নিশ্চিতকরণ
নিহত তামজিদ বাঁধন বিদ্যালয় ও আবাসিক পরিচয়ে সূত্রাপুর এলাকার পালপাড়া গ্রামের জাহিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি সরকারি আজিজুল হক কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ-এর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | তামজিদ হাসান বাঁধন |
| বয়স | ২২ |
| প্রতিষ্ঠান | সরকারি আজিজুল হক কলেজ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ |
| স্থান | স্টেশন রোড, পুরান বগুড়া ওয়াপদা গেট |
| সময় | রোববার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা |
পুলিশের বক্তব্য ও ব্যবস্থাপনা
বগুড়া সদর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী দুর্ঘটনায় ছাত্র নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবারের সদস্য, সহপাঠী ও কলেজশিক্ষকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার ধরণ ও ঘটনার স্থানে যানজট ও দ্রুত গতির যানবাহনের সংমিশ্রণকে দায়ী করা যায়।
স্থানীয় প্রভাব ও নিরাপত্তা চিন্তা
শহরের মধ্যভাগে থাকা স্টেশন রোডে নিয়মিতভাবে সরচার-গতি ও যানজট সৃষ্টি হয়—এই ধরনের ব্যস্ত সড়কে সড়ক নিরাপত্তা না থাকলে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই যায়। স্থানীয় অধ্যক্ষ ও শিক্ষার্থীরা বলেছেন যে একজন শিক্ষার্থী হারানো মানে একটি পরিবারের পাশাপাশি কলেজ সম্প্রদায়ের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি।
- তাত্ত্বিক কারণ: সিএনজি-অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের প্রাথমিক বর্ণনা।
- প্রাত্যক্ষ প্রভাব: ঘটনার পর শজিমেক হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
- প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ: পরিবার চাইলে ময়নাতদন্ত করতে পারত, তবে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তী করণীয় ও প্রশ্ন
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে এখন তদন্ত কিভাবে করা হবে, দুর্ঘটনার সময় সড়কে থাকা অন্য যানবাহনের চালক-যাত্রীদের বিবরণ জানতে হবে। এছাড়া একই রকম দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
শহরের অন্যান্য বাসিন্দারা বলছেন, যেখানে মানুষের চলাচল বেশি সেখানে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছে; স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করছেন।
ঘটনাটি শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তরফে নিহতের পরিবারের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।