ঘটনা ও তাদের অবস্থান
বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় বিরোধাপন্ন মসজিদের জায়গা নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময় একটি টিনের নির্মিত মসজিদ ঘর ভাঙচুর করে লন্ডভন্ড করা হয়েছে, ফলে সাম্প্রদায়িক স্থাপনার সম্পত্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহত ও চিকিৎসা
আহতদের মধ্যে যারা ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে তাদের নাম ও বয়স স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
| নাম | বয়স (প্রায়) |
|---|---|
| সোহরাব আলী (রইচ উদ্দিনের ছেলে) | ৫৫ |
| ফরিদুল ইসলাম | ৩৫ |
| নুর আলম (সোহরাব আলীর ছেলে) | ৩০ |
| ফরিদুল ইসলাম (মহির উদ্দিনের ছেলে) | ৩৪ |
| ডাবলু হোসেন (মেছের আলীর ছেলে) | ৪০ |
| রেজাউল প্রামানিক (আছের আলীর ছেলে) | ৪২ |
| আয়েশা বেগম (আফছার আলীর স্ত্রী) | ৫৫ |
| সুমি খাতুন (উজ্জল মিয়ার স্ত্রী) | ৩০ |
| গোলছারা বেগম (মোরগ আলী প্রামানিকের স্ত্রী) | ৫৫ |
ঘটনার পটভূমি ও দুই পক্ষের দাবি
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ২০০১ সালে সম্প্রদায়ের উদ্যোগে একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তবে যাতায়াত সুবিধার কারণে মসজিদের নির্ধারিত স্থানে নির্মাণ না করে প্রায় ২০০ মিটার দূরে সেটি তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে মসজিদের সঠিক জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হলে দুই ভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়। ২০২১ সালে পূর্বনির্ধারিত স্থানে অন্য পক্ষ নতুন করে একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করে।
সংঘর্ষের দিন, নামাজ শেষে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থার এক পর্যায়ে ধাওয়া এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটি ভাঙচুর করে মাইক, পাখা ও অন্যান্য জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করার অভিযোগ উঠেছে।
সোহরাব আলী অভিযোগ করেছিলেন, "২০২১ সালে নির্মিত মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।"
অপরদিকে আলহাজ আবুল কালাম দাবি করেন, "দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি মিমাংসার প্রস্তাব নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করার পর তারা আমাকে আটক করে।"
প্রতিবেশী ও পুলিশের অবস্থান
স্থানীয়দের দাবি ও উদ্বেগের পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- স্থানীয় উত্তেজনা বজায় আছে এবং যে কোনো সময় পরিস্থিতি তীব্র হওয়ার আশংকা রয়েছে।
- আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং পুলিশ কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
- মসজিদের জমির আইনি দিক ও স্থানীয় সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা উভয় পক্ষেই উঠে এসেছে।
প্রভাব ও পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ
মসজিদের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা না হলে স্থানীয় সামাজিক ক্ষতি ও আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যস্থতা জরুরি হওয়ার দেওয়াই। থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ফেরত, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ ও বিচারের ব্যবস্থা স্থানীয় শান্তি ফিরিয়ে আনতে জরুরি।