আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন দেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ভবন নকশা নির্ধারিত হওয়ার পর নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং স্থানীয় মানুষের জন্য এই সিদ্ধান্তকে আনন্দের খবর হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
স্থান ও জমির পরিমাণ
প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে প্রায় ৮৬ একর জমির ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়টি সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় স্থাপন করা হচ্ছে—যা জেলা এবং আশপাশের অঞ্চলের শিক্ষামূলক সুযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা
বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদ এই ভিত্তিপ্রস্তরাস্থানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু
- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ
- ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ইস্রাফীল
| বিষয় | বাটোয়ারা |
|---|---|
| ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন ও সময় | আজ সোমবার, বেলা সবা ১১টা |
| স্থান | মহেশালী, জামালপুর ইউনিয়ন, সদর উপজেলা, ঠাকুরগাঁও |
| জমির পরিমাণ | প্রায় ৮৬ একর |
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় রাষ্ট্রপতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দ্রুত কার্যকর রূপ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন—
“আশা করি, অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোর নকশা হবে, নির্মাণকাজও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি আনন্দের দিন কারণ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার প্রসার সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে গুণগতভাবে উন্নত করে ‘‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’’-এ পরিণত করার কাজে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি স্থানীয় মানুষকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি দৃষ্টি রাখারও অনুরোধ করেন।
আগামী কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যাশা
ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে:
- বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের নকশা সংক্রান্ত চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ধারণ
- নির্মাণকাজ শুরু এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষাকর্ম চালু করার প্রস্তুতি
- স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণে উন্নত-মানের শিক্ষাক্রম ও অধ্যাপক নিয়োগ নিয়ে কাজ
প্রভাব ও গুরুত্ব
ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে শিক্ষার সুযোগের সরাসরি বৃদ্ধি ঘটবে—বিশেষত পাশ্ববর্তী উপজেলার ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষা নেওয়া সহজতর হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থানীয় অর্থনীতি, বসতির বিন্যাস ও চাকরির সুযোগেও প্রভাব ফেলবে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে দ্রুত নকশা ও নির্মাণ শুরু করতে চান, তা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এর কার্যক্রম দ্রুত সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া যত দ্রুত এগোনোর পরিকল্পনা করা হোক, ততই প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা, বাজেট বিনিয়োগ, পরিবেশ ও স্থানীয় সম্ভাব্য প্রভাবের ওপর পর্যাপ্ত বিশ্লেষণ। ইউজিসি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব বিষয় নির্ভরযোগ্যভাবে পরিচালিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়টি এলাকায় কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইউজিসি কীভাবে সময়সীমা ও বাজেট চূড়ান্ত করবেন—এবং স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষাবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে কিনা, সেগুলো নিয়েও নজর থাকবে। ঠাকুরগাঁওবাসী এখন এই নতুন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব রূপ দেখতে উদ্বিগ্নতা ও আশা—দুটোই মিশ্রভাবে অনুভব করছেন।