রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ভবানিপুর এলাকার বাসিন্দা বারকাত আলী বুধবার (২১ অক্টোবর) রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের নির্দেশে তার দীর্ঘদিনের বৈধ ফসলি জমি একতরফাভাবে দখল করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বারকাত আলী দাবি করেছেন, জমিটি শ্মশান হিসেবে জোরপূর্বক দখল নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে এবং এতে তাদের পরিবারের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
বিচার-বিবাদ এবং রেকর্ড
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ওই জমির একটা বড় অংশ ২০১৩ সালে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় শ্মশান হিসেবে দাবি করে এবং বিষয়টি আদালতে চলে যায় (মামলা নং ৩৭/১৩)। ২০১৮ সালে তিনি ডিক্রি রায় পান এবং আদালতের মাধ্যমে জমির একাংশের দখল বুঝে দেওয়া হয়। তারপরও জমির মালিকানায় চলতে থাকা অস্থিরতা কাটেনি—ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রতিপক্ষ ফের জমি নিয়ে হট্টগোল করছে।
স্থানীয় রেকর্ড প্রসঙ্গে বারকাত আলী বলেন, ব্রিটিশ শাসনকালে জমির শ্রেণি হিসেবে শ্মশান এবং দলা হিসেবে উল্লেখ আছে; পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে এসএ রেকর্ডে দলা হিসেবে নথিভুক্ত হয় এবং সর্বশেষ আরএস জরিপে সেখানে জলাশয় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সেটি তাদের শ্মশান হিসেবে দাবি করে আসছেন এবং দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন—ভুক্তভোগী পরিবার এটি সহ্য করতে পারছে না বলে জানান।
ঘটনার সাম্প্রতিক বিবরণ ও প্রতিকূলতা
বারকাত আলীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই প্রতিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা করে। সে সময় বাধা দিতে গিয়ে তাঁর ছেলেমেয়েদের মধ্যে আক্রমণের শিকার হন তাঁর ছেলে ও ভাতিজা। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অভিযোগকারী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বারকাত আলী আরও জানান যে, এলাকার নিতাই, সৌরভ, বসন্ত প্রমুখ—কয়েকজনের নামপঞ্জি করে—জমি দখলে অংশগ্রহণ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা না মেনে কাজ চালানো হচ্ছে। তার ধরণে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও প্রতিপক্ষের পক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বসা অবস্থায়ও কোন বৈধ কাগজপত্র দেখায়নি শ্মশান কমিটি।
মৌলিক প্রশ্ন ও স্থানীয় প্রভাব
এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের নাম জড়ানোয় রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্ন ওঠেছে। একজন সংসদ সদস্যের নামে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীতে উদ্বেগ বেড়েছে—বিশেষত আইন ও আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা না দেখানোর পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে তা এখানকার সামাজিক শান্তি ও সম্পত্তি অধিকারের ক্ষেত্রে প্ৰভূত প্রভাব ফেলতে পারে।
- মামলা নং: ৩৭/১৩
- ডিক্রি রায়: ২০১৮ সালে ভুক্তভোগীকে অনুকূলে দেওয়া হয়
- ঘটনা: ৪ জুলাই জমি দখলের চেষ্টার সময় ছেলেমেয়েদের ওপর হামলার অভিযোগ
স্থানীয় প্রত্যাশা ও দাবি
বারকাত আলী সংবাদ সম্মেলনে সরকারী উচ্চ মহলে হস্তক্ষেপ ও সঠিক প্রতিকার কামনা করেছেন। পরিবারটি দাবি করেছেন, তারা আদালতের রায় ও ভূমি রেকর্ডকে সম্মান জানাতে চায় এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে তারা নিরাপত্তা জোরদার করার অনুরোধ রাখেন যাতে কোনো ধরনের হুমকি-নির্যাতন থেকে তারা রক্ষা পান।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি—এতে সম্পর্কে পদক্ষেপের নির্দেশনা অথবা তদন্ত বাস্তবায়ন করা হলে তার ফলাফল স্থানীয় শান্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| দাবিকারী | বারকাত আলী (লেহেম্বা ভবানিপুর) |
| বিরোধী পক্ষ | শ্মশান কমিটি ও স্থানীয় কয়েকজন (নাম উল্লেখ) |
| আইনগত অবস্থান | মামলা নং ৩৭/১৩, ২০১৮ সালে ডিক্রি রায় |
স্থানীয় শান্তি বিনষ্ট ও সম্পত্তি অধিকার নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা। ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং আগামি দুর্ঘটনা রোধে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা আবশ্যক বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এই ঘটনার ভবিষ্যৎ কৌশল ও আদালত-প্রশাসন যা সিদ্ধান্ত নেয়, তা রাণীশংকৈলের সামাজিক সুস্থিতি ও মানুষের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে—তাই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।