নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন: কী অভিযোগ এসেছে
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থীসহ মোট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। নোটিশে যারা নামজারি করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীসহ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাও।
নোটিশপ্রাপ্ত ও অভিযোগকারীর নাম ও ভূমিকা
| নোটিশপ্রাপ্ত | পদ/সংশ্লিষ্টতা |
|---|---|
| মির্জা ফয়সল আমীন | বিএনপি প্রার্থী |
| মো. দেলাওয়ার হোসেন | ১১ দলীয় ঐক্যজোট (জামায়াতে ইসলামী-মনোনীত) প্রার্থী |
| মো. রাজু আলী | সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা |
| মো. জুলফিকার রহমান | আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক |
ওই অভিযোগের পটভূমি ও তদন্ত কার্যক্রম
নোটিশে বলা হয়েছে, বাবদ গৃহীত ভিডিও পর্যালোচনায় নির্বাচনী আচরণবিধি, ২০২৫-এর ১৫(খ) ধারা লঙ্ঘনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষত মো. দেলাওয়ার হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। তাই তাঁকে আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
"দেলাওয়ার হোসেন ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করতে মসজিদসহ ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।"
কমিটির কাছে এ পর্যন্ত মোট আটটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে তিনজন ইতোমধ্যে লিখিত জবাব দিয়েছেন। অভিযোগগুলি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার প্রতিবেদন ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য
আবেদনকারী পক্ষের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট মো. পয়গাম আলী, যিনি সাংবাদিকদের কাছে সংশ্লিষ্ট ঘটনার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অপরদিকে অভিযোগ পেলে ফয়সল আমীনের পক্ষে তাঁর প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক লিখিত জবাব দাখিল করেছেন; সেখানে অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তথ্যে বলা হয়েছে, অভিযোগ তুলে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য বিজয় ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ওই ঘটনার সময় ফয়সল আমীন বা তাঁর কোনো নেতা-কর্মী জড়িত ছিলেন না।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য ফলাফল
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ থাকায় কমিটির নোটিশ ও আগাম তদারকি ভোটারদের মধ্যে সন্দেহাস্পদ ভাব তৈরি করেছে। এই পর্যায়ে লিখিত ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে কমিটি আগামী কার্যক্রম নির্ধারণ করবে, যা প্রার্থীদের প্রচারণার গতিবিধি ও ভোটারদের আচরণ উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে।
- কমিটি জানিয়েছে—ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৫(খ) ধারার লঙ্ঘনের প্রাথমিক চিহ্ন পাওয়া গেছে।
- নোটিশপ্রাপ্তদের মধ্যে সরকারি দুই কর্মকর্তা রয়েছেন—একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
- আলোচিত তারিখ—নোটিশপ্রাপ্ত মো. দেলাওয়ার হোসেনকে ১৯ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা এবং সিভিল জজ মো. তোসিকুল আলমের স্বাক্ষরিত নোটিশে এসব আলাপন প্রকাশ পেয়েছে। তদন্ত শেষে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ সূত্র জানিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ ভোট এলাকায় এই ধরনের অভিযোগ ও শোকজ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে; ফলে কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত ভোটারদের আস্থা পুনঃস্থাপনে কার্যকর প্রমাণিত হবে।