ঠাকুরগাঁও আদালত চত্বরে জব্দকৃত শতাধিক যানবাহন খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর ধরে পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। আদালত চত্বরে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনের অংশে সারি করে রাখা ছেঁড়া-ছেঁড়া মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিক-আপ ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা—অনেকটির আসন নেই, কোনওটিতে দরজা নেই, কোথাও চাকা বসে নেই, আবার অনেকের উপর লতা-গুল্ম বেড়ে কেবল মরচে-ধরা ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়।
যানবাহন কেন এখানে আসে, এবং কী হচ্ছে তারপর?
জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক পরিবহন, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা অপরাধে জড়িত গাড়িগুলো মামলা চলাকালে জব্দ করে পরে আদালতে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় মালখানা সূত্রে জানা যায়, এসব মামলার নিষ্পত্তি কখনো কখনো ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত স্থগিত থাকে। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে যানবাহনগুলো এতটাই অবহেলিত হয় যে মামলার পর মালিককে ফেরত দেওয়া বা নিলামে বিক্রি করার সময় তাদের ব্যবহারযোগ্য অবস্থা থাকে না।
সংরক্ষণ নেই, চুরি-নষ্টের মাত্রা বাড়ছে
সরেজমিনে দেখা যায়, মালামাল সংরক্ষণের জন্য কোনো স্থায়ী ছাউনি, বেষ্টনী বা নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে
- বহু যানবাহনের যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে;
- কিছুর অভ্যন্তরীণ অংশ ও আসন কেটে নেওয়া হয়েছে;
- অবহেলায় ধাতু অংশ মরচে ধরে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে;
- বৃষ্টি-রোদে দীর্ঘকাল পড়ে থাকার কারণে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ক্ষতি বেড়েছে।
এই সব কারণে আদালত-নির্ধারিত পরবর্তী ধাপ—মালিককে ফেরত দেওয়া কিংবা নিলামে বিক্রয়—দুই ক্ষেত্রেই সম্পদের আসল মূল্য বজায় থাকে না এবং অনেক সময় গাড়িগুলো ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করতে হয়। ফলশ্রুতিতে ব্যক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদেরও ক্ষতি হচ্ছে।
দায়িত্ব ও ক্রমবিন্যাস
জেলার সাতটি থানার জব্দকৃত যানবাহনগুলো পরে আদালতে পাঠানো হয় এবং মালখানার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোর্টের নির্ধারিত উপপরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বহন করে। তবে কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা না থাকায় একই জায়গায় দীর্ঘসময় এসব যানবাহন স্তূপীকরণ হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সংরক্ষণ নীতির অনুপস্থিতি স্পষ্ট হচ্ছে।
প্রভাব ও প্রশ্ন
এই অনির্দিষ্টকালীন সংরক্ষণে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় আর্থিক ক্ষতি অথবা দায়-প্রতিপন্নতা দেখা দিতে পারে। স্থানীয় মানুষ ও যানবাহন মালিকরা বলছেন, মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় গৃহস্ত-আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন অনেকে। আদালত-প্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং মালখানার অনতিভাবী অবস্থান জনস্বার্থে প্রশ্ন তোলে—কীভাবে যেন দ্রুত, স্বচ্ছ ও পেশাগতভাবে এসব সম্পদের রাখ-রাখাও নিশ্চিত করা যায়।
তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য উদ্যোগ
সমস্যার দায়ভার রয়েছে অপরাধ মোকাবেলা ও রক্ষাকর্তা প্রতিষ্ঠান, আদালত ও বিআরটিএ—তিনটি পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। সম্ভাব্য সমাধানগুলো হতে পারে:
- অল্পমেয়াদে চালু করা নিরাপত্তা ছাউনি ও বেড়া স্থাপন;
- আদালত-নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ;
- অপ্রয়োজনে দ্রুত নিলামের ব্যবস্থা ও নিলাম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা;
- দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীভূত, আবদ্ধ এবং পরীক্ষিত সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ।
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| জায়গা | ঠাকুরগাঁও আদালত চত্বর, বিআরটিএ কার্যালয় সামনে |
| জব্দকৃত যানবাহনের শ্রেণি | মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিক-আপ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ইত্যাদি |
| মামলা নিষ্পত্তি সময় | প্রকটভাবে ১০–১২ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে দেখা গেছে |
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও অনুসরণ
এই প্রতিবেদন তৈরি করার সময় জেলা আদালত, বিআরটিএ বা পুলিশ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য সংগ্রহ করা না গেলেও এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন—দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের ব্যাখ্যা জানতে পুনরায় যোগাযোগ করে তাদের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করব এবং আপডেট প্রধান করব।
স্থানীয় বোর্ডিং, ব্যবসা ও গৃহস্থালীর ওপর এই ধরনের প্রশাসনিক অনিয়মের আর্থিক ও শামিল ব্যথা কেমন প্রভাব ফেলে—তাও অনুসন্ধান করার মতো। যতক্ষণ না কার্যকর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, ততক্ষণই ব্যক্তি এবং রাষ্ট্র উভয়ের সম্পদ বাড়তে থাকা ক্ষতির মুখে থাকবে।