টাঙ্গাইলে সখীপুর উপজেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ অভিযান চলাকালে দুটি বেসরকারি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যবিধি ও পণ্য সংরক্ষণের অপ্রত্যাশিত অবনতি ধরা পড়েছে। অভিযানে প্যাথলজি ল্যাবের ফ্রিজে কাঁচা মাছ রাখা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও রিএজেন্ট পাওয়া যায়। অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট দুই ক্লিনিককে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং একটি ক্লিনিকের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
অভিযান ও উপস্থিতি
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টাঙ্গাইল অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল অভিযান নেতৃত্ব দেন। অভিযানে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি, একই দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহানা পারভীন এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও ছিলেন।
যা ধরা পড়েছে ও কত জরিমানা করা হলো
অভিযানকালে পাওয়া অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুতগতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায় যে এক ক্লিনিকের প্যাথলজি বিভাগে প্যাথলজির ফ্রিজে কাঁচা মাছ সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন মেডিকেল পণ্য অপ্রয়োজনীয় ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় রাখা হচ্ছিল। অপর ক্লিনিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও ল্যাবরেটরি রিএজেন্ট পাওয়া যায়।
- প্রথম ক্লিনিক — প্যাথলজি ফ্রিজে কাঁচা মাছ মজুত ও অপরিচ্ছন্নতা: ২৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং ক্লিনিকের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ.
- দ্বিতীয় ক্লিনিক — মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ ও রিএজেন্ট: ১৫,০০০ টাকা জরিমানা.
“আমরা সখীপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করে বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছি। অনিয়মের দায়ে ওই দুটি ক্লিনিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি এবং একটি ক্লিনিকের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্লিনিক দুটির প্যাথলজিতে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিএজেন্ট পেয়েছি এবং প্যাথলজির ভেতরে থাকা ফ্রিজে কাঁচা মাছ পেয়েছি। যথাযথ নিয়ম মেনে তাদের ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।”
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী নির্দেশনা
এ ধরনের অনিয়ম জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি করে—বিশেষত প্যাথলজি বিভাগে সংরক্ষিত উপকরণ ও রিএজেন্টের মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থান পরীক্ষার ফলকে প্রভাব ফেলতে পারে এবং রোগ নির্ণয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণত প্যাথলজিক্যাল টেস্টের ফলাফল নির্ভুলতার ওপর ভর করে চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেন; তাই ল্যাবের অনুপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ সরাসরি স্বাস্থ্যসেবার মান কমায়।
অভিযানকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঔষধ ও রিএজেন্ট সংরক্ষণ, ফ্রিজ ব্যবহারের শুদ্ধতা ও প্যাথলজি বিভাগে পরিচ্ছন্নতার মান অনুসরণ করবে। অভিযানের নেতৃত্ব দেনাসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে এবং পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| বিষয় | কী ধরা পড়েছে | নির্ধারিত ঠিকানা |
|---|---|---|
| ক্লিনিক-১ | ফ্রিজে কাঁচা মাছ, অপ্রচ্ছন্নতা | ২৫,০০০ টাকা জরিমানা; কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ |
| ক্লিনিক-২ | মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রিএজেন্ট | ১৫,০০০ টাকা জরিমানা |
স্থানীয়রা বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও মান রক্ষা করার জন্য নিয়মিত তত্ত্বাবধান জরুরি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই অভিযান টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ অঞ্চলে ক্লিনিকগুলোর আচরণে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিমত প্রকাশ করেছেন।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এসব ঘটনা স্থানীয় জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে; তাই প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও শিক্ষা কার্যক্রম দাবি বিরাজ করছে।