টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর পাতুলী কচুয়াডাঙ্গার ব্যক্তি মনোয়ার হোসেনের ছেলে এবং হাজী আবুল হোসেন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (হাবিট) এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জিহাদ হোসেন আসিফ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটায় স্থানীয়রা গাড়াইল আন্ডারপাস এলাকার একটি ডোবায় পানিতে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়; পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় নিশ্চিত হলে তা নিখোঁজ ছাত্র আসিফের বলে জানা গেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সময়রেখা
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে যে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে আসিফ মুরগি বিক্রির জন্য পুটিয়াজানি হাটে যান। সেখানে তিনি তাঁর চাচাতো ভাই তামিমকে কাজে কথা বলে হাট থেকে চলে যান এবং এরপর আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাত ৮টা পর্যন্ত আসিফের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি থানায় জানায় এবং খোঁজ শুরু করে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | জিহাদ হোসেন আসিফ |
| ঠিকানা | চর পাতুলী, কচুয়াডাঙ্গা, টাঙ্গাইল সদর |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | হাজী আবুল হোসেন ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (হাবিট), দ্বিতীয় বর্ষ |
| নিখোঁজ হওয়ার সময় | শুক্রবার দুপুর (হতাচক্র) |
| মরদেহ উদ্ধার | শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা, গাড়াইল আন্ডারপাসের ডোবা |
পুলিশের পরিস্থিতি বিবৃতি
"খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আসিফ গতকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে,"
উপরোক্ত বিবৃতি দিয়েছেন টাঙ্গাইল সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ রাহাদুজ্জামান আকন্দ। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রেরণের প্রস্তুতি অথবা ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানায়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরিবারের ব্যথা
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবার ও প্রতিবেশীরা শুক্রবার রাত থেকেই নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। স্থানীয়রা ও পরিজনরা শনিবার সকালে যখন ডোবার পাশে ভীড় করলেন, তখন তারা মরদেহটি দেখে শনাক্ত করেন। পুলিশ নিহতের পরিবারকে ঘটনা সম্পর্কিত প্রাথমিক তদন্তে সহযোগিতা করতে বলেছে।
প্রশ্ন জাগে: নিখোঁজ হওয়ার পর কেন দেরি?
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনা উস্কে দিয়েছে যে, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার প্রক্রিয়া ও দ্রুততার মধ্যে কোনো ব্যত্যয় ছিল কি না। সূত্রে উল্লেখ আছে যে, মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার কারণে সন্ধানে বিলম্ব ঘটে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করার পরও সন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হলেও সন্ধানোপায় নিশ্চিতকরণ ও দ্রুততা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
- নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তির শেষ দেখা যাওয়ার স্থান: পুটিয়াজানি হাট
- মরদেহ উদ্ধারকৃত স্থান: গাড়াইল আন্ডারপাসের সংলগ্ন ডোবা
- বর্তমান অবস্থান: পুলিশ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত
পরবর্তী ধাপ
পুলিশ এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সুরতহাল, পরিচয়পত্র যাচাই, পরিবারিক স্বীকৃতি ও প্রাথমিক পরিদর্শনের ভিত্তিতে রিপোর্ট করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় হলে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে হত্যা, দূর্ঘটনা অথবা আত্মহত্যা—কোন ছকে ঘটনা ঘটেছে তা চিহ্নিত করা হবে।
স্থানীয়রা এবং পারিবারিক সূত্র জানায়, তারা ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার চান। পুলিশও জানিয়েছে, তদন্তের তথ্য প্রকাশযোগ্য পর্যায়ে আসলে তা পরিবার ও গণমাধ্যমকে জানানো হবে। বর্তমানে ঘটনার সম্পর্কে আইনগত কার্যক্রম চলছে এবং তদন্তকে স্বচ্ছভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
এই ঘটনা টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় জনসাধারণ ও ছাত্র সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীরা স্থানীয় অনুসন্ধানকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আরও কড়া অনুসন্ধান চলবে।