তাহিরপুর উপজেলার মিয়ারচর খেয়াঘাটে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে একই ঘাটে দুই পক্ষের টোল আদায় চলার অভিযোগ ওঠার পর ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ঘটনায় বিরোধী পক্ষ ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে খেদ ও ক্ষোভ বেড়েছে; স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উদ্যোগে বাদাঘাট বাজারে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুই পক্ষ কারা—দাবি ও আইনি প্রেক্ষাপট
স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নদীর পশ্চিম তীর থেকে টোল আদায় করছেন জেলা পরিষদের অনুমোদিত ইজারাদার ওয়াহেদ মিয়া-র লোকজন। অপরদিকে পূর্ব তীরে, দেবোত্তর এস্টেট কর্তৃক দাবি করা অংশের ভিত্তিতে ইজারা নেওয়া রয়েছে বলে দাবি করে জেলা ছাত্রদল নেতা নাইম আহমেদ শিশির-ের প্রতিনিধিরাও একই ঘাটে ভাড়া নিচ্ছেন।
খেয়াঘাটের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে পূর্বের আদালতপথের বিবরণও স্থানীয়ভাবে আলোচিত। জেলা জজ আদালতের আপিল মামলা নং—২৭/২০২৪-এ ওই ভূমিকে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে সিভিল রিভিশন মামলা নং—২৭৪০/২০২৪ দায়ের হলে হাইকোর্ট বিভাগ স্থিতাবস্থা (Status Quo) নির্দেশ দেন এবং ওই আদেশের মেয়াদভিত্তিক বৃদ্ধিও করা হয়েছে।
জেলা পরিষদের অনুমতি ও বরাদ্দ
জেলা পরিষদ সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মেয়াদভিত্তিক টোল আদায়ের জন্য ওয়াহেদ মিয়া কে ৪০ লাখ টাকা-এর বিনিময়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জেলা পরিষদের মাসিক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত পুনরায় তাকে ৪২ লাখ টাকা-এর বিনিময়ে টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
| বিষয় | দাবি/তথ্য |
|---|---|
| জেলাপরিষদের অনুমোদিত ইজারাদার | ওয়াহেদ মিয়া (৪০ লাখ/৪২ লাখ অনুক্রমে মেয়াদ) |
| দাবিকারী পক্ষ | দেবোত্তর এস্টেটের প্রতিনিধিরা—নাইম আহমেদ শিশিরের লোকজন |
| আইনি অবস্থা | জজ আদালত: সরকারি সম্পত্তি উল্লেখ; হাইকোর্ট: স্থিতাবস্থা আদেশ |
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও প্রতিবাদ
স্থানীয়রা বলছেন, একই ঘাটে একাধিক সূত্র থেকে টোল নেওয়ায় যাত্রীদের দ্বিগুণ খরচে ভুগতে হচ্ছে এবং মানুষজন নানান জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বাদাঘাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বণিক সমিতি, সাধারণ জনতা ও শ্রমিকরা অংশ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আর যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বণিক সমিতির প্রেসিডেন্ট নজরুল সিকদার, সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা মোখলেসুর রহমানসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা।
“খেয়াঘাটের মালিকানা যে পক্ষেরই হোক, দুই পক্ষ একসঙ্গে টোল আদায় করায় আমাদের দ্বিগুণ টাকা দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন। তারা বলছেন, না হলে চলাচলে বড় সমস্যা দেখা দেবে এবং দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকিও থাকবে।
প্রশাসনিক ও আইনি নির্ধারণ না হওয়ার প্রভাব
অভিযোগ সূত্রে যেটি সুস্পষ্ট হচ্ছে, তা হল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে প্রায়শই নিয়মিত নজরদারি বা সমন্বয় অনুপস্থিত। এর ফলে ইজারা ও দাবি-দাবি নিয়ে দ্বিধা ও অভিযোগ বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষই এর মূল ভুক্তভোগী হচ্ছে।
- দুই পক্ষের টোল আদায়ের ফলে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অর্থব্যয়।
- কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান বিবাদে স্থানীয় বাজারে উত্তেজনা বাড়ছে।
- স্থানীয়রা প্রশাসনের স্থায়ী ব্যবস্থা ও আইনি স্পষ্টীকরণ দাবী করছে।
এই সময়ে প্রশাসন ও আদালত যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে মনিটরিং ও সমন্বয় জরুরি বলে স্থানীয়দের অনুরোধ। এলাকাবাসী আশঙ্কা জানিয়েছে—যদি অবস্থা আগের মতো না ঠিক হয়, তাহলে ঘাটে চলাচল ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হতে পারে। খবর পেলে সংশ্লিষ্ট দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া আপডেট করা হবে।