সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ অবস্থায় থাকাকালীন তাঁর গলায় রামদা ধরে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং বসতবাড়িসহ বিভিন্ন সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে দিরাই সদর দফতরে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ করে মামলা করেছেন সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভিন আক্তার, যিনি প্রধান আলোচ্য বাদী।
আদালতের নির্দেশ ও তদন্তের পথ
রবিবার দিরাই ফুলবাড়িয়া গ্রামের দায়েরকৃত মামলাটি অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমের আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত বিষয়টি গ্রহণ করেন। আদালত ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদনের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি-কে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার মূল অভিযোগ ও সময়সীমা
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৫ জানুয়ারি দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুই কর্মচারীকে অভিনীত কর্মকর্তা দিয়ে সংসদ সদস্যের বাড়িতে নিলে অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম নাছির উদ্দিনকে দলিলে স্বাক্ষর করাতে চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য স্বাক্ষর করতে রাজি না হলে আসামিরা তাঁর গলায় রামদা ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং জোর করে স্বাক্ষর আদায় করেন। এসময় সংসদ সদস্যের অপর স্ত্রী শেলী চৌধুরী বাধা দিলে তাঁকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
পারভিন আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, “স্ট্রোক করার পর যখন অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন, সেই সুযোগে গলায় দা ধরে বাড়িটি লিখে নেওয়া হয়। দীর্ঘ দিন দুশ্চিন্তায় থাকার পর স্বামী আমাকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দিলে আমি আদালতের শরণাপন্ন হই।”
আসামিদের নাম ও অবস্থান
মামলার এজাহারে প্রধান আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে সংসদ সদস্যের সৎ ভাই তিনজনকে—মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া মামলায় অন্যান্য অভিযুক্ত হিসাবে থাকা নামগুলো হল:
- আমিরুল ইসলাম
- ছয়ফুল চৌধুরী
- দলিল লেখক মুজিবুর রহমান
- তাজুল ইসলাম
- মোহরার মমতাজ বেগম
| ধরণ | প্রাসঙ্গিক নাম |
|---|---|
| প্রধান আসামি | মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী |
| অন্য আসামি | আমিরুল ইসলাম, ছয়ফুল চৌধুরী, মুজিবুর রহমান (দলিল লেখক), তাজুল ইসলাম, মমতাজ বেগম |
আসামিপক্ষের প্রতিক্রিয়া
প্রধান আসামি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “গলায় দা ধরে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি এবং আমরা আইনিভাবেই এই মামলা মোকাবিলা করব।”
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি ও অভিযোগের পরিণতি
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ঘটনা চলাকালে পারভিন আক্তারকে মারধর করা হয়েছে এবং শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে বলেও উল্লেখ আছে। এছাড়া উপস্থিত একটি ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। বাদী পারভিন আক্তার জানিয়েছেন দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন এবং পরে তিনি আইনি সহায়তা নিয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এখন কী হবে — আইনি পরবর্তী ধাপ
দিরাই আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিলেও, তদন্ত শেষে সিআইডির প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দিরাই আদালতের পেশকার মুহিত লাল চন্দ মিঠু মামলার আদেশটির বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে যদি অভিযোগ সপোষিত হয়, তাহলে তা সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় সংক্রান্ত গুরুতর আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করবে। আর যদি তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে মামলাকারীর বিরুদ্ধে যথাযোগ্য আইনি পথে ন্যায্য প্রতিকার নেওয়া হবে বলে মনে করা হয়।
এই বিষয়ে আরও বিবরণ পাওয়া গেলে WE NEWS পাঠককে জানাবে।