পরিবার-শীর্ষ কলহের পর খুটিয়ে বিচার না মিলেই দুই শিশুর মৃত্যু
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই শিশুসন্তানকে হত্যার পর হাওরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবার বিরুদ্ধে। গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই শিশুর নাম — মুহাদ্দিস (৭) ও তুলনা (৪)। পুলিশ বর্তমানে মামলার তদন্ত ও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত যাচাই করছে।
ঘটনার চিত্র ও পুলিশি পদক্ষেপ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার পারিবারিক বিরোধের পর পরিবারের বড় দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে যান বাবা কামরুল ইসলাম। দুই দিন সিলেটে থাকার পরে ফেরার পথে, গত রোববার রাতের দিকে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথকভাবে ওই দুই শিশুকে হত্যা করে হাওরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার রাতে নয়—তবে পুলিশের বার্তা অনুযায়ী, তুলনার মরদেহ মঙ্গলবার এবং মুহাদ্দিসের মরদেহ বুধবার হাওরে ভেসে উঠলে সংশ্লিষ্ট থানা-প্রহরীরা উদ্ধার করে। মরদেহ দুইটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
গ্রাম, জেলাপ্রশাসন ও তদন্ত
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন—
“দুইটি পৃথক স্থানে হাওর থেকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটির সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেছেন। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে; জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ”
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামটি হলো দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের অধিবাসী; অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম আব্দুল কাদিরের ছেলে। বুধবার দুপুরে পেরুয়া মধুপুর ঘর থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পাশাপাশি ঘটনার সময়লিপি, পরিবারের বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান সংগ্রহ করে যাচাই করবেন।
- অভিযুক্ত: কামরুল ইসলাম (পারিবারিক পরিচয়: আব্দুল কাদিরের ছেলে)
- শিকার: মুহাদ্দিস (৭), তুলনা (৪)
- মরদেহ উদ্ধার: তুলনা—মঙ্গলবার; মুহাদ্দিস—বুধবার (হাওর থেকে)
- ময়নাতদন্ত: সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত
- আটককৃত স্থান: পেরুয়া মধুপুর
ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| গত শুক্রবার | কামরুল বড় দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে যান |
| গত রোববার রাত | সুনামগঞ্জ ফেরারের পথে পৃথকভাবে দুই শিশুকে হত্যার অভিযোগ |
| মঙ্গলবার | তুলনার মরদেহ হাওরে ভেসে ওঠে; পুলিশ উদ্ধার |
| বুধবার | মুহাদ্দিসের মরদেহ উদ্ধার; কামরুলকে আটক করা হয় |
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে; গ্রামটি আপাতত শান্ত থাকলেও অপরাধমূলক এই ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অপরাধসংক্রান্ত এই ঘটনায় তদন্তপুরস্কার্য দিকগুলো হলো—শিশুদের আগাম নিরাপত্তা ও সমাজে পারিবারিক কলহের প্রতিক্রিয়া, ঘটনার যথাযথ সময়রেখা ও তদন্তপদ্ধতি, এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা। থানার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশী উপস্থাপিত তথ্য ও ময়নাতদন্তের ফলাফলই পরবর্তীতে ঘটনার আইনগত চূড়ান্ত স্বরূপ নির্ধারণ করবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, শিশু কল্যাণ কক্ষ ও কমিউনিটি লিডারদের অংশগ্রহণে মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ও দ্বিতীয় ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম জরুরি বলে সমাজের কিছু পক্ষ উল্লেখ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোজন করা হবে।