সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বারে গণপরিবহন ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রুকুনপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে বড়চর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আরও দুজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
দুর্ঘটনার সময় ও নিহতদের পরিচয়
স্থানীয় সূত্র ও শেরপুর হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকাল ৬টা ১০ মিনিট-এ। নিহতদের পরিচয় ও বয়স প্রদান করা হয়েছে।
| নাম | বয়স | ঠিকানা | মৃত্যুস্থান |
|---|---|---|---|
| মাওলানা মশহুদ আহাম্মদ | ৪০ | নবীগঞ্জ, কারখানা গ্রাম | ঘটনাস্থল |
| ময়না মিয়া (আব্দুল করিমের ছেলে) | ৪২ | ইনাতগঞ্জ বাজার এলাকায় | সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
| কাশেম মিয়া (ময়না মিয়ার ছেলে) | ৫০ | দক্ষিণ গ্রাম, ইনাতগঞ্জ | সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
দুর্ঘটনার পরের দ্রুত পদক্ষেপ
শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে ছিলেন। ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি যান সরিয়ে মহাসড়কে আবারও যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পরে ওই বাস ও পিকআপ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
“দুর্ঘটনায় মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবোধক বিষয়গুলো
এই ধরনের মহাসড়ক দুর্ঘটনা সিলেট সিরাজগঞ্জ রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। দুর্ঘটনার কারণে অন্তত অল্প সময়ের জন্য যান-জট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়; বিশেষ করে ভোরবেলা দ্রুতগামী যানবাহনের মাঝে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। স্থানীয়রা বলছেন, দুর্ঘটনার পরে স্থানীয়রা দ্রুততা দেখিয়ে আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে পাঠায়, যা প্রাণরক্ষা করতে সহায়তা করেছে, তবে সড়ক নিরাপত্তা ও যত্নশীল চালকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
- ঘটনার সময়: সোমবার সকাল ৬:১০
- মোট নিহত: ৩ জন
- প্রাথমিক আইনগত কার্যক্রম: হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে
এই দুর্ঘটনার পর মাননীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও হাইওয়ে পুলিশ এলাকার নীরবতা ও নিরাপত্তা পুনর্গঠনে কিভাবে পদক্ষেপ নেবে—এটি স্থানীয়দের নজরকাড়ছে। শেরপুর হাইওয়ে থানার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘটনাস্থল থেকে আনা দুই গুরুতর আহতকে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করলেও তাদের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আর ঘটনাস্থলেই এক জনের মৃত্যু হয়েছে—এর ফলে পরিবারগুলোর ওপর জরুরি সাংগঠনিক ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনের তত্পরতা দাবি করে।
হাইওয়ে থানার তদন্ত শেষে যে অভিযোগ বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেসব তথ্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হবে। ঘটনার কারণে ঢাকা-মহাসড়কের ওই সেকশনে অল্প সময়ের জন্য চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সিলেটগামী ও ঢাকাগামী যাত্রীরা সচেতনভাবে যাত্রা করার অনুরোধ করা হচ্ছে।