মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতা ও নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ করে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নাগরিক সমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
অভিযোগ ও আক্রোশ
আন্দোলনকারীরা বলেন, সেলফি পরিবহনের বাসগুলো বেপরোয়া চালানো, অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং এবং কখনও কখনও মাদক সেবন করে গাড়ি চালানোর অভিযোগের কারণে পরিবহনগুলো দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্যে বলা হয়, অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বা মেয়াদোত্তীর্ণ। এই কারণেই যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে বড় ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা পুরোনো ও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার উদাহরণ স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানায়, এই সমস্ত অনিয়ম অব্যাহত থাকলে জীবন ও সম্পদ দুটোতেই ক্ষতি হবে। বিক্ষোভাবস্থায় তারা রুট পারমিট বাতিল করে কঠোর ভাবে আদালত ও প্রশাসনের নজরে মামলা আনার দাবি জানায়।
কর্মসূচির ধরণ ও অংশগ্রহণ
প্রায় এক ঘণ্টা সংগঠিত মানববন্ধনের পর আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন খোন্দকার তুহিন হোসেন, গোলাম রব্বানী, বাবুল হোসেন, মো. পীযূষ ফাইটার সহ স্থানীয় কয়েকজন।
- স্থান ও সময়: বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড, সকাল ১১টা (সোমবার)
- প্রধান দাবি: সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল
- অন্যান্য দাবি: চালকদের লাইসেন্স যাচাই ও সড়ক নিরাপত্তা বিধানকরণ
পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা
কর্মসূচির সময়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ও বরঙ্গাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
“এ বিষয়ে সম্প্রতি সব অংশীজনকে নিয়ে সভা করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও সবাইকে নিয়ে সভা আহ্বান করে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে পরিবহনটির কী কী অনিয়ম-অসংগতি রয়েছে, তা সমাধানে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।”
উক্ত মন্তব্যটি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার বরাত দিয়ে সময়কালীন সংবাদে তুলে ধরা হয়।
পূর্বঘটনা ও তাৎপর্য
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আছে, ২০২২ সালের ১৩ জুলাই ঘিওরের তরা এলাকায় সেলফি পরিবহনের একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হন। সেই ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবহনের দুটি বাস ভাঙচুর করে এবং একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল, তবে কিছুদিন পর পুনরায় সেবা শুরু করে।
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ১৩ জুলাই ২০২২ | ঘিওরের তরা এলাকায় বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই জন নিহত; বাস ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা |
| ২৯ আগস্ট (বর্ণনা থাকা—সাম্প্রতিক) | ঘিওরে পুখুরিয়া এলাকায় মানববন্ধন (সেলফি পরিবহনের বিরুদ্ধে) |
| ৩১ আগস্ট (স্মারকলিপি) | জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান |
পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া
সেলফি পরিবহনের পাটুরিয়া ঘাট শাখার তত্ত্বাবধায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বাসের রুট পারমিট ও চালকদের লাইসেন্স রয়েছে এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়। এছাড়া চালকদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
অঞ্চলবাসীর নিরাপত্তা-উপর কেন্দ্র করে এ ধরনের আন্দোলন বারবার হওয়া এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ তুলছেন স্থানীয়রা। তারা রাস্তায় আবারও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা না ঘটার নিশ্চয়তা চান—যাতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় পরিবহন মালিক পক্ষের বক্তব্য ও প্রশাসনের পূর্বতর সিদ্ধান্তের আলোকে দ্রুত বৈঠক করে স্থায়ী সমাধান না এনে গেলে অনশন কিংবা আরও বৃহৎ আন্দোলনের হুমকি থাকতে পারে বলে অংশগ্রহণকারীরা জানায়।