মানিকগঞ্জে ১৩টি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগে নয়জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার জাগীর এলাকার একটি পুরোনো কারখানার গোডাউনে, যেখানে গোপন সংবাদে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাঁদের আটক করে।
অভিযান ও দণ্ডপ্রক্রিয়া
মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের অভিযান মঙ্গলবার রাতে প্রায় রাত ২টা-র দিকে পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। সেখান থেকে আটককৃতদের বুধবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে সাজা দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিক্তা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তদের ওপর করা অভিযোগ ছিল, তারা পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ধারা ৪ লঙ্ঘন করেছেন। বিচারক এক জনকে এক বছর এবং বাকি আট জনকে প্রত্যেকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারাগারে পাঠানো ও অভিযুক্তদের পরিচয়
| নাম | ঠিকানা/উৎস | দণ্ড |
|---|---|---|
| মিজানুর রহমান | পূর্ব দাশড়া, মানিকগঞ্জ সদর | এক বছর |
| ইব্রাহিম খলিল | দিঘিরচালা, গাজীপুর | ছয় মাস |
| সোহেল রানা | তুলসীপুর, জামালপুর | ছয় মাস |
| ইমন হাসান | বাড্ডা, ঢাকা | ছয় মাস |
| তুহিন | বাড্ডা, ঢাকা (আবদুর রহমানের ছেলে) | ছয় মাস |
| মাসুদ জানা | বাড্ডা, ঢাকা (নেয়ামতুল্লাহর ছেলে) | ছয় মাস |
| হুমায়ুন কবির | ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল | ছয় মাস |
| মারুফ | বড় বেরাত, ঢাকা | ছয় মাস |
| রুবেল | তেলিপাড়া, গাজীপুর | ছয় মাস |
চুক্তিকর্তা ও সম্ভাব্য গন্তব্য
সরকারি বিবরণে বলা হয়েছে, সিংগাইর উপজেলার এক ব্যক্তি—যার নাম হিরু—নয়জনকে ভাড়া করে ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের জন্য চুক্তি করেছিলেন। প্রশাসন জানিয়েছে যে, প্রক্রিয়াজাত করা মাংস ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেলে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
“গোপন সংবাদে আমরা অভিযান চালিয়ে ওই গোডাউনে গিয়ে নয়জনকে আটক করেছি,”
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক রিক্তা খাতুনের বক্তব্য থেকে জানা যায় — অভিযান ও সাজার বিস্তারিত কার্যক্রম প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
অবৈধভাবে ঘোড়া জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত হলে তা স্থানীয় বাজারে অস্বাস্থ্যকর মাংস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। উপরন্তু, ঢাকা ও আশপাশের হোটেলে যদি এমন মাংস পৌঁছে যায়, তাহলে বড় অঙ্কের ভোক্তা-সুরক্ষা ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগ এনিয়ে সতর্কতা জারি করে অতিরিক্ত নজরদারি বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করতে পারে।
- ঘোড়া জবাই ও অবৈধ মাংস প্রক্রিয়াজাত প্রতিহত করতে বাড়তি অভিযান দরকার।
- স্থানীয় পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও রিপোর্টিং চ্যানেল শক্ত করা জরুরি।
- প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও থানা একসঙ্গে নিয়মিত তদারকি বাড়াবে বলে আশা করা যায়।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন ও সহকারী কমিশনার রিক্তা খাতুন ইতিপূর্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। চলমান তদন্তে উপরের ব্যক্তিদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না বা চুক্তিকর্তা 'হিরু'র অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কৌশলগত তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও ভোক্তা উভয়কেই সতর্ক থাকতে বলছে যাতে ভবিষ্যতে অনৈতিক ও অসঙ্গত ধরনের পশুজবাই ও মাংসপ্রক্রিয়াজাত রোধ করা যায় এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।