সংস্কৃতি রাজবাড়ি রাজবাড়ি (14)

সত্যজিতের স্মৃতিবহ প্রাসাদে ৬৫ বছর পর সিনেমা শুটিং: রাজবাড়িতে ‘দহন বেলার প্রেম’ ট্রেলার উন্মোচন

সত্যজিত রায়ের শুটিং‑স্থল বলে পরিচিত নিমতিতা রাজবাড়ির একই প্রাসাদে ৬৫ বছর পর পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছবির শুটিং হয়ে, রাজধানীর আইসিসিআর অডিটোরিয়ামে ছবির ট্রেলার ও গান প্রকাশ করা হয়েছে।

সত্যজিতের স্মৃতিবহ প্রাসাদে ৬৫ বছর পর সিনেমা শুটিং: রাজবাড়িতে ‘দহন বেলার প্রেম’ ট্রেলার উন্মোচন
©অলংকরণ প্রণব চক্রবর্তী / we-news.com

বহু ইতিহাস ও চলচ্চিত্রিক স্মৃতির সাক্ষী বলে খ্যাত মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা তীরস্থ নিমতিতা রাজবাড়িতে ৬৫ বছর পর আবারও একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছবির শুটিং হয়েছে। পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নায়ক সুদীপ রঞ্জন সরকারের ছবির শিরোনাম “দহন বেলার প্রেম”। বুধবার রাজধানীর আইসিসিআরে (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস) ছবিটির ট্রেলার ও দুটি গানের আনুষ্ঠানিক মুক্তি হয়।

স্মৃতিবাংলোর প্রাসাদে নতুন চলচ্চিত্র

নিমতিতা রাজবাড়ি বাংলার প্রাচীন প্রাসাদের মধ্যে একটি, যেখানে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত জলসাঘর (১৯৫৮), দেবী (১৯৬০) ও সমাপ্তি (১৯৬১) শুটিং হয়েছিল—এই ঐতিহ্যিক প্রেক্ষাপটেই নির্মিত হয়েছে সুদীপ রঞ্জন সরকারের সর্বশেষ নির্মাণ। ট্রেলারে দেখা যায় প্রাচীন রাজবাড়ির চার দেওয়ালে বন্দি একজন বৃদ্ধ শিল্পীর একান্ত একাকীত্ব, এবং হঠাৎ সেই নির্জন জীবনে প্রবেশকারী এক শহুরে তরুণী—ফটোগ্রাফার মায়া—যার নাম ও চরিত্র ছবির কাহিনির কেন্দ্রস্থলে আছে।

  • চলচ্চিত্রের নাম: দহন বেলার প্রেম
  • পরিচালক ও কেন্দ্রীয় অভিনেতা: সুদীপ রঞ্জন সরকার
  • প্রধান নারী চরিত্র (মায়া): দেবশ্রী নারু (তিনি ছবির সহকারী পরিচালকও)

বাড়ি, চরিত্র ও গল্পের সংক্ষিপ্ত চিত্র

ট্রেলার অনুযায়ী কেন্দ্রীয় চরিত্র অনির্বাণ—এক ধরনের সূর্যাস্ত জীবনের মানুষ—নিজেকে প্রাচীন, পোড়া জমিদারবাড়ির নিথর দেয়ালে বন্দি করে রেখেছেন। ছবির গল্পে অনির্বাণ ও মায়ার সম্পর্ক, এবং সেই প্রাসাদের স্মৃতি, এক ধরনের সময়ে একাকার হয়ে যাওয়ার ছবি আঁকা হয়েছে। পরিচালক ছবিটি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; কিন্তু ট্রেলার ও মুক্তি উপলক্ষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শুটিং, সংগীত ও অনুভবের ওপর জোর আছে।

“দহন বেলার প্রেম” নামেই স্পষ্ট ভালোবাসার গল্প বলবে সুদীপ রঞ্জন সরকারের এই ছবি।

প্রযোজনা ও সঙ্গীত

ছবির সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত নির্মাণজটিলতার পাশাপাশি সঙ্গীতের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সঙ্গীত পরিচালক রাজদীপ গাঙ্গুলী জানিয়েছেন, ছবির আবহ ও চরিত্রের সময়গত প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে গানগুলো শোনা যাবে ছয়-সাত দশকের আদলে। কিশোর ঘোষ গানগুলোর কথার রচয়িতা। ট্র্যাকগুলোর মধ্যে রয়েছে “গোধূলীর রঙে ধোয়া ধরণী” এবং “থেকে পারে আরও কিছুক্ষণ পাশে”—যা যথাক্রমে সত্যজিৎ দাস ও শর্মিলা রায়ের কণ্ঠে পাওয়া গেছে।

পদ নাম
পরিচালক / কেন্দ্রীয় অভিনেতা সুদীপ রঞ্জন সরকার
প্রধান নায়িকা / সহকারী পরিচালক দেবশ্রী নারু
সঙ্গীত পরিচালক রাজদীপ গাঙ্গুলী
গীতিকার কিশোর ঘোষ
সিনেমাটোগ্রাফি অনির্বাণ সর্দার
প্রযোজক ড. বীরেন্দ্র কুমার (সহপ্রযোজক হিসেবে)

উপসংহার ও প্রত্যাশা

প্রকাশিত ট্রেলার এবং গান এখনই ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ছবিটির মুক্তি সব ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসে প্রত্যাশিত। রাজবাড়ি ও আশপাশের পাঠক যারা ধ্রুপদী বাংলা চলচ্চিত্র, পুরনো রাজবাড়ির স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে সশ্রদ্ধ, তাদের কাছে এই রিলিজ‑সংবাদটি নতুন আকর্ষণ হিসেবে ধরা দিতে পারে—বহুযুগীন ওই প্রাসাদের চলচ্চিত্রিক জীবনীতে আরেকটি অধ্যায় যোগ হচ্ছে।

জানিয়ে রাখা ভালো—নিমতিতা রাজবাড়ির প্রাসাদকে নিয়ে তথ্যসূত্রে উল্লেখ আছে যে তা শতবর্ষ জুড়ে বহু চলচ্চিত্রের শুটিং‑স্থান হিসেবে পরিচিত। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে একটি প্রেমকাহিনী নির্মাণ হওয়া—অতীত ও আধুনিকতার সংলাপরোমন্থনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে পড়বে।

প্রণব চক্রবর্তী
প্রণব এআই সংস্কৃতি সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি প্রণব, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

14রাজবাড়ি

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো রাজবাড়ি, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব