রাজশাহীর পুঠিয়া থেকেওড়া ঐতিহাসিক সম্পদের একটি বড় অংশ—একটি পালঙ্ক—প্রায় ৩৫ বছর পরে উদ্ধৃত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে এই পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয় এবং জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তা পুঠিয়া রাজবাড়িতে সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হবে।
উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত
অভিযানে পালঙ্কের পাশাপাশি রাজবাড়ির আরো কিছু পুরোনো সামগ্রী পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয় স্থানীয় মাছচাষী ইকবালুর রহমান (ওরফে ইলু) এর বাড়ি থেকে। ইলু পরিবারের বিবরণে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের দিকে কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল আর্থিক সংকটের কারণে পালঙ্কটি বিক্রি করেছেন। 당시 আবদুর রহমান খান নামের একজন স্কুলশিক্ষক প্রায় ১০ হাজার টাকা দিয়ে সেটি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন পরিবারের ব্যবহারে ছিল।
“উদ্ধার করা নিদর্শনগুলো পুঠিয়া রাজবাড়িতে সংরক্ষণ করা হবে। দর্শনার্থীদের সামনে ঐতিহাসিক এসব সামগ্রী তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের।”
উদ্ধারকৃত সামগ্রী ও অবস্থান
অভিযানে পাওয়া সামগ্রীগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো।
- পালঙ্ক — ইকবালুর/ইলু বাড়ি (প্ৰাতিষ্ঠানিকভাবে কমর বেগমের ব্যবহৃত বলে পরিচিত)
- পুরোনো খাট ও ড্রেসিং টেবিলের অংশ — ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি
- তিনটি ঝাড়বাতি — ভোলানাথ দত্তের বাড়ি
| উপকরণ | উদ্ধারের স্থান | টীকা |
|---|---|---|
| পালঙ্ক | ইকবালুর (ইলু) বাড়ি | কমর বেগমের ব্যবহৃত বলে প্রথাগত পরিচয় |
| পুরোনো খাট, ড্রেসিং টেবিলের অংশ | ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি | রাজবাড়ির অন্যান্য খন্ড |
| তিনটি ঝাড়বাতি | ভোলানাথ দত্তের বাড়ি | অলংকার এবং আলোচ্য সামগ্রী |
ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ
স্থানীয় ইতিহাসে ওই পালঙ্কটি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব আছে। পুঠিয়া রাজবাড়ির চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ নরেশ নারায়ণ তাঁর জীবদ্দশায় কলকাতায় অবস্থানকালে মুসলিম নারী কমর বেগমকে বিয়ে করেন বলে প্রচলিত। নরেশ নারায়ণের পর কমর বেগম কলকাতা থেকে পুঠিয়ায় এসে রাজপরিবারের দায়িত্ব নেন এবং দীর্ঘকাল রাজবাড়িতেই বসবাস করেন। স্থানীয় বর্ণনায়, ১৯৮৭ সালে কমর বেগমের মৃত্যু ঘটে।
পুতিয়া রাজবাড়ি ও এর জাদুঘরে সংরক্ষিত এই ধরনের নিদর্শনগুলো স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বোঝায় সহায়ক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এসব সামগ্রী জাদুঘরে রেখে দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে—যার ফলে স্থানীয় ইতিহাস পরিচিতিতে সহায়তা মিলবে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ধাপ
রোববারের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পুঠিয়া রাজবাড়ির কাস্টোডিয়ান হাফিজ উদ্দিন, সাবেক পৌর মেয়র আসাদুল ইসলাম আসাদ, স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই সামগ্রীগুলো কিভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং জাদুঘরে প্রদর্শনীর জন্য কী ধারা গৃহীত হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজবাড়ি সংরক্ষণ কমিটি মিলিতভাবে এগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গেছে।
উৎসগুলো জানান, ২০১৯ সালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও একই ধরনের সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সামগ্রিক ভেদে, এবার প্রশাসন সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মালামাল উদ্ধার করেছে এবং সংরক্ষণের আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় মানুষদের কাছে এই ধরনের নিদর্শন শুধুমাত্র পুরনো জিনিস নয়—এগুলো তাদের ইতিহাস, পরিচয় এবং ঐতিহ্যের পরিচায়ক।
পাঠকের জন্য পুঠিয়া রাজবাড়ি সম্পর্কিত মৌলিক তথ্যের ওপর নজরদারি ও স্থায়ী সংরক্ষণ ব্যবস্থার ধারণা গঠন করা প্রয়োজন হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ঐতিহ্য শাস্রয়িকভাবে দেখতে পায় এবং স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সুদৃঢ় থাকে।